সিলেটে জুলাইয়ের ৫৯ মামলা থেকে...
জুলাই আন্দোলনে সিলেট জেলা ও মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানায় দায়েরকৃত মামলার তদন্তে ইতোমধ্যে শেষ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সিলেটের ৫৯টি মামলা থেকে ২৮৪ জনকে...
ছবি সংগৃহীত
মসজিদের নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা দেওয়ানি মামলায় বাদী পক্ষের পক্ষে রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে প্রায় ৫০ বছর ধরে প্রচলিত নাম বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গোলাপগঞ্জের বাদেপাশা গ্রামের ৫০ বছরের পুরনো বাদেপাশা জামে মসজিদ- পূর্ব নাম (বাদেপাশা উত্তরহাটি পাঞ্জেগানা মসজিদ ) এর নাম পরিবর্তনের চেষ্টা থেমে গেল আদালতের রায়ে। সিনিয়র সিভিল জজ আদালত বিগত ২২/০৪/২০২৬ইং তারিখ বুধবার মসজিদের নাম পরিবর্তনে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।
মামলার বাদী মো. লতিফুর রহমান জানান, ১৯৭৭সালে তার বাবা ডা: মোহাম্মদ আলী “বাদেপাশা উত্তরহাটি পাঞ্জেগানা মসজিদ” নামে ওয়াকফ করে জমি দান করেন। পরে মসজিদ সম্প্রসারণের সময়ও নতুন দলিলে নাম উল্লেখ করা হয় বাদেপাশা জামে মসজিদ। দলিলে স্পষ্ট শর্ত ছিল—দাতা পরিবারের অনুমতি ছাড়া নাম পরিবর্তন করা যাবে না।
অথচ ২০২৪ সালে একটি পক্ষ জোর করে মসজিদের নাম বাদেপাশা শেখ নিদাই জামে মসজিদ করার চেষ্টা চালায়। এ নিয়ে আদালতে মামলা করেন ভূমিদাতার পক্ষে মুহাম্মদ লতিফুর রহমান (সত্ত্ব মামলা নং- ৫৭/২০২৪ ইংরেজী)
রায়ে মাননীয়া বিচারক নূর-ই জান্নাত তাবাসসুম বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর, ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। কোনো ব্যক্তির নামে নামকরণ করলে মসজিদের সার্বজনীনতা নষ্ট হয় এবং মুসল্লিদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হয়। শরিয়ত অনুযায়ী মসজিদের নাম আল্লাহর গুণবাচক বা ধর্মীয় তাৎপর্যপূর্ণ হওয়াই বাঞ্ছনীয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে প্রায় পাঁচ দশক ধরে যে নামে মসজিদটি পরিচিত, তা পরিবর্তনের জন্য যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, উভয় পক্ষের উপস্থাপন করা রেজিস্ট্রেশন দলিল ও স্থানীয় রেকর্ডে দেখা যায়, নাম পরিবর্তনের সভার কার্যবিবরণীতে অসামঞ্জস্য রয়েছে। আদালত সব সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে বাদীর পক্ষে রায় দেন। ফলে মসজিদের প্রচলিত নামই বহাল থাকছে।
রায়ের পর বাদী পক্ষের প্রতিনিধি বলেন, “আমাদের লড়াই ছিল সত্য ও ইতিহাস রক্ষার জন্য। আদালত সেই সত্যকেই স্বীকৃতি দিয়েছেন। এখন সময় সবাই মিলে মসজিদের উন্নয়নে কাজ করার।” বিবাদী পক্ষের আইনজীবী হোসেন আহমেদ জানান, রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন তারা।
স্থানীয় মুসল্লিদের অনেকেই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, নাম নিয়ে বিভাজন না করে মসজিদকেন্দ্রিক শিক্ষা ও সেবামূলক কাজে মনোযোগ দেওয়া এখন জরুরি।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী বাদেপাশা গ্রামের মোঃ লতিফুর রহমানের পিতা ডা:মোহাম্মদ আলী জীবিত থাকা অবস্থায় বাদেপাশা গ্রামে উত্তর হাটির মুসল্লিয়ানগণের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে একটি পাঞ্জেগানা মসজিদ নির্মাণ করার জন্য তিনি তার মৌরসী সম্পত্তি থেকে ১৯৭৭ সালের ২৭ জুন সম্পাদিত ৪৬৫০/ ১৯৭৭ইং নম্বর ওয়াকফনামা দলিল মূলে “বাদেপাশা উত্তরহাটি পাঞ্জেগানা মসজিদ” এর মোতাওয়াল্লি বরাবরে এস.এ. ১১৭ ও ২৫৩ খতিয়ানের এস.এ. ৯২ দাগে ০.০৪ একর ভূমি দান করেন । এরপর থেকেই এই নামেই এ মসজিদটি পরিচালনা হয়ে আসছিল।
মসজিদ নির্মাণের পর্যায় ক্রমে মুসল্লি সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় মসজিদের ইমাম মোয়াজ্জিনের সম্মানী সহ আনুষাঙ্গিক খরচাপাতি বৃদ্ধি পায়।
এসব সার্বিক দিক বিবেচনা করে সকল মুসল্লিদের সাথে পরামর্শ করে বাদী মোঃ লতিফুর রহমান গং যৌথ ভাবে ২০২২ সালের ২৯ মার্চ ১৪০৬/২০২২ইং নম্বর দলিল মূলে বি.এস. ১২২০ খতিয়ানের বি.এস. ৫১৮০ দাগে ০.২২৬৪ একর ভূমি “বাদেপাশা জামে মসজিদ” এর নাম বরাবরে হস্তান্তর করেন।
একই ভাবে ২০২৩ সালের ১৯ জুলাই মোঃ লতিফুর রহমান এবং ওবায়দুর রহমান যৌথ ভাবে ২৪৮৫/২০২৩ইং নম্বর সাফ কবালা দলিল মূলে বি.এস. ৩৭৯ খতিয়ানের ২৭ দাগে ০.০০৮৫ একর ভূমি “বাদেপাশা জামে মসজিদ” বরাবরে হস্তান্তর করেন।
এই দলিলে সুষ্পষ্ট ভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, মসজিদের দাতা পরিবারের সদস্যদের লিখিত অনুমতি ব্যতিত বর্ণিত মসজিদের নাম পরিবর্তন, সংযোজন, বিয়োজন করা যাবেনা।
এরপরেও মসজিদের পরিচালনা কমিটি সহ একটি শক্তিশালী মহল শেখ নিদাই নামে মসজিদের নামকরণে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।
তারা মসজিদের সাধারণ মুসল্লি ও ভুমিদাতাগণের মতামতের কোন তোয়াক্কা না করে তাদের খেয়াল খুশিমতো ব্যক্তির নামে মসজিদের নামকরণ করার সর্বাত্বক চেষ্টা চালাচ্ছিলেন।
এসএ/সিলেট