সিলেটের সড়ক, রেল ও আকাশপথ নিয়ে সুখবর দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

post-title

ছবি সংগৃহীত

সিলেটের সড়ক, আকাশ ও রেলপথ নিয়ে সুখবর দিলেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রোববার বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর ঈদ অনুদান বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন বাণিজ্য মন্ত্রী। তিনি এই সরকারের তিনমাসে সিলেটের উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন।

এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আখাউড়া-সিলেট রেললাইন ডাবল গেজ করার ব্যাপারে মন্ত্রীসভায় সবশেষ বৈঠকে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে এই রুটে ঘন্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করতে পারবে। এতে করে ৩ ঘন্টায় সিলেট থেকে ঢাকা যাওয়া যাবে। তাতে সড়কপথের উপর চাপ কমবে।

তিনি বলেন, আখাউড়া-সিলেট রেললাইন ডাবল গেজে উন্নীতের কাজ পুরোপুরো অনুমোদন পেলে সিলেট-চট্টগ্রাম রেলাইনের কাজে হাত দেবো।

সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ব্যাপারে মন্ত্রী বলেন, সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতের কাজ চলছে। এখন বৃষ্টির কারণে পুরোদমে কাজ করা যাচ্ছে না। তবে ঈদের পরে সিলেট-ঢাকা সড়ক সংস্কারের কাজ পুরোদমে শুরু হবে। এছাড়া সিলেট-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতের ব্যাপারেও কাজ চলছে।

সিলেট-চট্টগ্রাম ও সিলেট-কক্সবাজার রুটে বিমানের ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে বিমানের ব্যাবস্থাপনা পরিচালকের সাথে কথা হয়েছে। তাকে বলেছি, সিলেট-চট্টগ্রাম ও সিলেট-কক্সবাজারের রুটে ফ্লাইট চালু করতে। তিনি কথা দিয়েছেন, এটি তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করবেন।

পবিত্র ঈদুল আজহার পর এ বিষয়ে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এরআগে নগর ভবনে সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার ১১৫৮জন কর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের প্রায় ৫৮ লাখ টাকা তুলে দেন মন্ত্রী৷

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাই সিটি কর্পোরেশনের প্রাণ। তাদের অবদানেই সিলেট শহর বাসযোগ্য থাকে। তাই সরকার তাদের সম্মান জানাতে প্রতি ঈদেই বিশেষ উপহার দিচ্ছে।

সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকারসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী সব সময় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কথা ভাবেন। গত ঈদেও উপহার পাঠিয়েছিলেন, এবারও পাঠিয়েছেন। সরকারের সামর্থ্য সীমিত, তারপরও আপনাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।’

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো ৪১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে ৮৩১ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর জন্য উপহার নিশ্চিত করা হয়। পরে আরও ৩৩১ জন যাতে উপহার থেকে বাদ না পড়েন, সে জন্য সিসিকের নিজস্ব তহবিল থেকে অতিরিক্ত ১৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা যোগ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন সমস্যার বিষয়ও তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি তাদের বাসস্থানের অবস্থা ঘুরে দেখেছেন। একটি ছোট কক্ষে আট থেকে ১০ জন পর্যন্ত থাকেন, যা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নতুন আবাসন প্রকল্প নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

ঈদুল আজহায় কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার করে সিলেটকে আবার পরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত করা হবে।’

কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণের ওপরও জোর দেন তিনি। বলেন, চামড়া দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ বছরে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। তাই কোরবানির পর চামড়া যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মাদ্রাসার শিক্ষক, মুহতামিম ও কোরবানিদাতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পশু জবাইয়ের চার ঘণ্টার মধ্যে চামড়ায় লবণ লাগিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে। সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে সিলেট থেকে চামড়া সংগ্রহ নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি।

এসএ/সিলেট