নিয়মবহির্ভূত প্রমোশনের অভিযোগে শাবির সাবেক ভিসির পিএসসহ দুজনকে শাস্তি

post-title

ফাইল ছবি

প্রমোশন ও আপগ্রেডেশন নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের একান্ত সচিব কবির উদ্দিনসহ দু’জনকে শাস্তি দেয়া হয়েছে।

রোববার (১০ মে) বিকেল তিনটায় অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪১তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিগত সময়ে নিয়োগ, প্রমোশন, আপগ্রেডেশন ও পেনশন সংক্রান্ত অন্যান্য অনিয়মে কর্মকর্তাদের কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন বলে জানা যায়।

এর মধ্যে কবির উদ্দিনকে অতিরিক্ত আপগ্রেডেশন গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ না করেই কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের উপগ্রন্থাগারিক সেবিকা সুলতানাকে নিয়োগ ও আপগ্রেডেশন প্রদান করার ঘটনা তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের উভয়ের দুইটি ইনক্রিমেন্ট বাতিল ও তিরস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট।

জানা যায়, রেজিষ্ট্রার দপ্তরের উপরেজিস্ট্রার কবির উদ্দিন কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও আপগ্রেডেশন নীতিমালা ২০১৪ অনুযায়ী কর্মচারী থেকে আপগ্রেডেশন প্রাপ্ত কর্মকর্তা। তার দুটি আপগ্রেডেশন পাওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি তিনটি আপগ্রেডেশন নিয়েছেন বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের সাবেক পরিচালক এ কে এম ফেরদৌসকে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অতিরিক্ত পরিচালক পদে নিয়োগ দেয়া হয়। এ পদে নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি প্রয়োজন হলেও সেই যোগ্যতা তিনি পূরণ করেননি। ২০২১ সালের ৩০ জুন তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে এই পদে পরবর্তী নিয়োগ দেওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করার লিখিত অনুমোদন প্রদান করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেসময় কোন চুক্তি করা হয়নি। ফলে সিন্ডিকেট সভা চুক্তিবিহীন অবস্থায় গ্রহণ করা বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা ফেরত নেওয়া হবে না কেন মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

অন্যদিকে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের উপ-রেজিস্ট্রার মো. জামাল উদ্দিন প্রশাসনিক পদে আপগ্রেডেশনের আগে বাহিরের প্রতিষ্ঠানের যে অভিজ্ঞতার সনদ জমা দিয়েছেন তা প্রথম নিয়োগের সময় সংযুক্ত করা হয়নি। এছাড়া তিনি পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত হননি। পরবর্তীতে জমা দেওয়া অভিজ্ঞতার সনদ যাচাই করে সেখানে কোনো ক্রমিক নম্বর পাওয়া যায়নি। এ কারণে সংশ্লি সনদ ও নথিপত্র পুনরায় যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট।

এ বিষয়ে জনতে চাইলে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম বলেন, ‘তদন্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে সিন্ডিকেট এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।’


এসএ/সিলেট