মিরাবাজার-আগপাড়া সড়কের উন্নয়নকাজ পরিদর্শন

কোরবানির ৮ ঘণ্টার মধ্যে নগরকে বর্জ্যমুক্ত করা হবে : সিসিক প্রশাসক

post-title

ছবি সংগৃহীত

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সিসিকের প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরে বলেছেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, কোরবানির ৮ ঘণ্টার মধ্যে নগরকে বর্জ্যমুক্ত করব। আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চাই।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের মিরাবাজার-আগপাড়া প্রধান সড়কের উন্নয়নকাজ শেষে পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

৮ ঘণ্টার মধ্যে নগর পরিষ্কার করতে হলে সবার সহযোগিতা লাগবে জানিয়ে সিসিক প্রশাসক বলেন, আমাদের কর্মীরা দ্রুত ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করবে। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ব্লিচিং পাউডার ও পলিব্যাগ বিতরণ করা হবে। কোরবানির বর্জ্য ও রক্ত পলিব্যাগে সংরক্ষণ করলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দ্রুত তা অপসারণ করবেন। নগরবাসীর সহযোগিতায় আমরা অতি দ্রুত শহরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চাই।”

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, নগরের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে অনেকগুলো বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নগরের সব এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।তিনি বলেন, “আপনারা জানেন, সিলেট নগরের উন্নয়নের জন্য গত ২ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেট সফর করেছেন। তিনি সিলেটের উন্নয়নের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং ৪ হাজার ৬শ কোটি টাকার বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। একটি দৃষ্টিনন্দন, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর গড়তেই এসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “নগর উন্নয়নের জন্য আরও বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় আড়াইশ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে আপনাদের এলাকাতেই প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার প্রকল্প রয়েছে। খুব শিগগিরই এসব কাজ শুরু হবে। একসঙ্গে সব প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও পর্যায়ক্রমে সব এলাকায় উন্নয়ন করা হবে।”

নগর পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “শুধু উন্নত রাস্তা বা অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না, নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতেও সবাইকে সচেতন হতে হবে। আমাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দিনরাত কাজ করছেন। তবে নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পুরো নগর পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। নিজেদের বাড়ির মতোই শহরটাকে ভালোবাসতে হবে। রাস্তাঘাটে ময়লা ফেলা যাবে না।” তিনি সামাজিক সংগঠনগুলোকে নগর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণ বিএনপিকে ম্যান্ডেট দিয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। জনকল্যাণ ও উন্নয়ন নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।”

প্রসঙ্গত, মিরাবাজার-আগপাড়া প্রধান সড়কের উন্নয়নকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই সড়কটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। পরিদর্শনকালে প্রশাসক এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কাজের অগ্রগতি ঘুরে দেখেন। তিনি জানান, রাস্তার পাশের ড্রেনও সংস্কার করা হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও এলাকাবাসীর সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এ বি এম জিল্লুর রহমান উজ্জ্বল, বিএনপি নেতা মিনহাজুল ইসলাম, আগপাড়া মসজিদের মোতওয়াল্লি আব্দুল ওয়াহিদ তুরণ, সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমদ, মৌমুসী ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণ সংস্থার উপদেষ্টা শফিকুল ইসলাম চৌধুরী সাদিক, মান্না চৌধুরী, পাপলু পালসহ এলাকার বিশিষ্টজনরা।

এসএ/সিলেট