মাকে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা’— ছাতকে সংবাদ সম্মেলনে সন্তানের বিস্ফোরক অভিযোগ

মায়ের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত চাই- পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগে সন্তানদের সংবাদ সম্মেলন

post-title

সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের ছাতকে মায়ের মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহত রংফুল বেগমের সন্তানরা। তাদের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে এবং তদন্তের শুরু থেকেই বিভিন্ন অসঙ্গতি ও অবহেলার কারণে ন্যায়বিচার ব্যাহত হচ্ছে।

মঙ্গলবার দুপুরে ছাতক উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের বালিউরা চাটুরপাড় গ্রামের বাসিন্দা ও সৌদি আরব প্রবাসী আবদুল হান্নান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত বছরের শুরুতে তার বাবা আবদুল গফুর, মা রংফুল বেগম ও স্ত্রী ফারজানা বেগম ছাতক শহরের রহমতবাগ আবাসিক এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে ওঠার কিছুদিন পর তার বাবা এক নিকটাত্মীয় নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার মা-বাবার মধ্যে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয় এবং তার মা নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার বাবা প্রায়ই তার মায়ের কাছে টাকা দাবি করতেন। টাকা না দিলে তাকে মারধর করা হতো। এ ঘটনায় গত বছরের ৪ মে ছাতক থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পরে একই বছরের ২৩ জুন তার মা সুনামগঞ্জের আমল গ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার বাবার বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন থাকলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

আবদুল হান্নান জানান, দীর্ঘ নয় বছর ধরে তিনি সৌদি আরবে কর্মরত। চলতি বছরের ২০ মার্চ বিদেশে থাকা অবস্থায় তিনি খবর পান, তার মা ভাড়া বাসার ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছেন। দেশে থাকা স্বজনরা থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে পুলিশ ঘটনাটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হিসেবে রেকর্ড করে। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, ওই মামলার বাদী তার বাবা। এতে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে তাদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের আগেই পানির ট্যাপ খুলে দিয়ে সম্ভাব্য আলামত নষ্টের চেষ্টা করা হয়। এছাড়া তার মায়ের ব্যবহৃত চাবির গোছা ও পায়ের স্যান্ডেল ঘরের ভেতরে পাওয়া যায়। শয়নকক্ষের দরজার পর্দায় রক্তের দাগও ছিল, যা পুলিশ জব্দ করে। এসব আলামত স্বাভাবিক মৃত্যু বা আত্মহত্যার ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, তার বাবার দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যে গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে। থানায় দেওয়া আবেদনে তার বাবা দাবি করেন, শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্ত্রীকে নিচে পড়ে থাকতে দেখেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। কিন্তু আদালতে দায়ের করা অন্য এক মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, হাসপাতালে গিয়ে ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন। একই সঙ্গে তিনি থানায় রেকর্ড হওয়া অপমৃত্যুর মামলাকে মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে নিজের স্বাক্ষর জাল হওয়ার অভিযোগও তোলেন। এসব পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পুরো ঘটনাকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে বলে দাবি করেন আবদুল হান্নান।

তার অভিযোগ, তার বাবা, তার স্ত্রী এবং স্ত্রীর পরিবারের কয়েকজন সদস্য মিলে প্রথমে তার মাকে ঘরের ভেতরে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বা দুর্ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তারা দৃঢ় সন্দেহ পোষণ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি পুলিশ প্রশাসন, তদন্ত সংস্থা, বিচার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি রংফুল বেগমের মৃত্যুর নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গভীর তদন্ত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের যথাযথ মূল্যায়ন এবং প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে কুলসুমা আক্তার, রূপেজা বেগম, রুহুল আমিন ও রুমান উপস্থিত ছিলেন।

টিএ/ছাতক