কাষ্টঘর সুইপার কলোনিতে সিসিক প্রশাসক

হরিজন সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপের ঘোষণা

post-title

ছবি সংগৃহীত

সিলেট নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করেন তারা। শহরের আবর্জনা সরানো, নালা-ড্রেন পরিষ্কার রাখা এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার পেছনে রয়েছে তাদের নীরব শ্রম।

অথচ সেই শ্রমিকদের অনেকেই বছরের পর বছর কাটিয়েছেন ঘিঞ্জি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। অবশেষে তাদের দুর্দশা দেখতে সরাসরি কাষ্টঘর সুইপার কলোনিতে গেলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে কাষ্টঘর সুইপার কলোনি পরিদর্শন করে তিনি হরিজন সম্প্রদায়ের বসবাসের পরিবেশ, পানি ও বিদ্যুতের সংকট এবং সামগ্রিক জীবনমান সরেজমিনে দেখেন।

দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই জনগোষ্ঠীর জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

পরিদর্শনকালে সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন জানান, সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে নির্মিত এই কলোনিতে বর্তমানে ৪২৪ জন হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করছেন। এর মধ্যে ১১১ জন সিসিকে কর্মরত, অন্যত্র ২৫ জন চাকরি করেন, আর ১১৯ জন বর্তমানে বেকার।

কলোনির সরু গলি, অপর্যাপ্ত আবাসন, পানির সীমাবদ্ধতা এবং অনিরাপদ পরিবেশ দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সিসিক প্রশাসক। তিনি বলেন, “নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে হরিজন সম্প্রদায়ের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তাদের জীবনমান অত্যন্ত খারাপ।

অতীতে তাদের উন্নয়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আমরা দ্রুত বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”

তিনি দৈনিক মজুরি বৃদ্ধি, চাকরিকালীন সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ এবং কর্মরত শ্রমিকদের কল্যাণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে বেকার সদস্যদের কর্মসংস্থানের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান। আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “আমাদের দায়িত্ব যারা বেকার তাদের কাজে যুক্ত করা। আর যারা কাজ করছেন, তাদের মর্যাদা ও সুবিধা বাড়ানো। সবচেয়ে বড় কথা, তারা যেন মানুষের মতো সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কলোনিতে নিরাপদ পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ঘিঞ্জি পরিবেশ থেকে বাসিন্দাদের পর্যায়ক্রমে উন্নত আবাসনে পুনর্বাসনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

এ সময় আবেগঘন মুহূর্তও তৈরি হয়। কলোনির বাসিন্দারা প্রশাসককে ঘিরে নিজেদের দীর্ঘদিনের কষ্টের কথা তুলে ধরেন। তাদের একজন বলেন, “অতীতে সিটি কর্পোরেশন থেকে কোনো মেয়র বা কর্মকর্তা আমাদের দেখতে আসেননি। আপনি নিজে এসে আমাদের কথা শুনেছেন, এটাই আমাদের জন্য বড় বিষয়।” প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাসিন্দারা বলেন, তারা আশা করছেন এবার সত্যিই তাদের জীবন বদলের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরিদর্শনের সময় সামাজিক সচেতনতার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন সিসিক প্রশাসক। তিনি কলোনিবাসীদের মাদক গ্রহণ ও মাদক ব্যবসা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নিজেদের ভবিষ্যৎ ও নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে সবাইকে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।” এ সময় বাসিন্দারা মাদকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘদিনের অবহেলার পর প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এমন সরাসরি উপস্থিতি হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

এসএ/সিলেট