আইন কলেজ শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা চেয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৪/১১৭(সি) ধারায় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন; অভিযোগ তদন্তে পুলিশের আশ্বাস

মাদকের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেই প্রাণনাশের হুমকি- নবীগঞ্জে ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

post-title

সংগৃহীত

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের পূর্ব তিমিরপুর গ্রামের বাসিন্দা ও হবিগঞ্জ ল' কলেজের শিক্ষার্থী মিল্টন মিয়া তালুকদার, পিতা- মৃত তবারক মিয়া, নিজের ও পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালত, হবিগঞ্জে একটি আবেদন দায়ের করেছেন।

আবেদনে তিনি ফয়েজ মিয়া (২৫), ফজল মিয়া (২৩), উভয় পিতা- মাহিদ মিয়া, আবেদ মিয়া (২৩), কায়েছ মিয়া (২১), উভয় পিতা- মৃত কর্নাল মিয়া, হিলাল মিয়া (৪০), হেলাল মিয়া (৪৫) ও জামাল মিয়া (৩৫), সর্ব পিতা- মৃত আনিফ মিয়া, মাহিদ মিয়া গং, সর্ব সাং- পূর্ব তিমিরপুর, ৯নং ওয়ার্ড, নবীগঞ্জ পৌরসভা, থানা ও জেলা- হবিগঞ্জকে ২য় পক্ষ হিসেবে উল্লেখ করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৪/১১৭(সি) ধারায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।

আবেদনে মিল্টন মিয়া তালুকদার অভিযোগ করেন, তিনি হবিগঞ্জ ল' কলেজের একজন ছাত্র। এলাকায় কথিত মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় ২য় পক্ষগণ তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এরপর থেকে তাকে, তার পরিবারের সদস্যদের এবং মামলার সাক্ষীদের হত্যার হুমকি, অপহরণ, লাশ গুম ও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, ১৮ জুলাই ২০২৬ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে স্থানীয় তিমিরপুর বাজারে কবির মিয়ার দোকানের সামনে পৌঁছালে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ২য় পক্ষগণ দা, রামদা, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলার চেষ্টা করে। এ সময় তিনি চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন ও উপস্থিত সাক্ষীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সরে যায়। এতে তিনি প্রাণে রক্ষা পান বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনকারী আদালতের কাছে দাবি করেন, যেকোনো সময় তার, তার পরিবারের সদস্যদের কিংবা মামলার সাক্ষীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। এ কারণে তিনি শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা বিবেচনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৪/১১৭(সি) ধারায় প্রসিডিং গ্রহণ, প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি মুচলেকার আদেশ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হোসেন বলেন, "এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য এসআই জয়ন্তকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

তবে, অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। 

টিএ/ছাতক