সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ

কদমতলী সংঘর্ষে শ্রমিক হত্যার বিচার ও নিরপরাধদের মামলা থেকে অব্যাহতির আহ্বান

post-title

ছবি সংগৃহীত

সিলেট নগরের কদমতলী বাস টার্মিনালে সংঘর্ষে নিহত দুই পরিবহন শ্রমিক দেলোয়ার হোসেন ও রিপন হত্যার সুষ্ঠু বিচার, প্রকৃত আসামিদের আইনের আওতায় আনা এবং নিরপরাধ শ্রমিক ও নেতাদের মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি জানিয়েছে সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়ন।

শনিবার (৮ আগস্ট) সিলেট নগরের জিন্দাবাজারের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি হাজী মো. ময়নুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ২৭ এপ্রিল কদমতলী বাস টার্মিনালে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস মিনিবাস মালিক সমিতির কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষে দুই শ্রমিক নিহত হন। এ ঘটনায় ৬ মে দক্ষিণ সুরমা থানায় হত্যা মামলা হয়। মামলায় ২৯ জন এজাহারভুক্ত এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় সংগঠনের সভাপতি হাজী মো. ময়নুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ ও শামছুল হক মানিকসহ কয়েকজনকে আসামি করা হলেও ঘটনার সময় তারা ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে দাবি করেন নেতারা। তাদের দাবি, ময়িনুল ইসলাম, আলী আকবর রাজন ও আব্দুস শহীদ ওই সময় নাজিরবাজারে উপ-কমিটির নির্বাচনে এবং শামছুল হক মানিক ও নুর মিয়া হবিগঞ্জে অবস্থান করছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়,  মামলার তদন্তে হাজী ময়িনুল ইসলাম, আলী আকবর রাজন,  আব্দুস শহীদ ও  শামছুল হক মানিকের ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিতি বা সম্পৃক্ততার প্রাথমিক কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মোবাইল ট্র্যাকিং, তথ্যপ্রযুক্তি ও সিডিআরএমএমসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩-এ ধারায় অন্তর্বর্তীকালীন পুলিশ প্রতিবেদন দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।

অন্যদিকে দক্ষিণ সুরমা থানার জি.আর. মামলায় শাহজাহান, আব্দুল মুহিম, রিয়াজুল ইসলাম (রাজন),  আবুল হোসেন, হোসাইন মোহাম্মদ সুন্দর আলী, পাপ্পু, অপু,  সেলিম উদ্দিন ও  আব্দুর রূপসহ অন্যদের বিরুদ্ধে দেলোয়ার ও রিপন হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান শ্রমিক নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, নিহত রিপনের পিতা ছাবলু মিয়া গত ৩০ এপ্রিল আদালতে ২২ জনের নাম উল্লেখ করে যে মামলা  দায়ের করেন। ওই মামলায় শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের নাম ছিল না এবং ৫ মে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয় বলে দাবি করেন তারা। পরে দক্ষিণ সুরমা থানায় দায়ের করা ০৬/৯৩ নম্বর মামলায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নেতারা।

নিহত দেলোয়ারের স্ত্রী রাজিয়া আক্তারের দায়ের করা দক্ষিণ সুরমা সি.আর. মামলাও শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের নাম নেই বলে দাবি করা হয়। এ ছাড়া দেলোয়ারের পিতা আজির উদ্দিনের ২৯ জুলাইয়ের সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিমের বিরুদ্ধে সংগঠনবিরোধী কর্মকান্ড, ২৭ এপ্রিলের সংঘর্ষে উসকানি এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগ করা হয়। এসব অভিযোগে তাকে গত ২৫ মে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে জানানো হয়। পরে ১৫ সদস্যের কার্যকরী কমিটির ১৩ সদস্যের উপস্থিতিতে শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে তাকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। ৮২টি উপ-কমিটি থেকেও তার স্থায়ী বহিষ্কারের পক্ষে লিখিত সমর্থন পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন নেতারা।

এ সময় গত ১৯ জুলাই শ্রম আদালত সিলেটে দেওয়া দুটি সুলেহনামার বিষয়েও কথা বলেন নেতারা। তারা বলেন, সংগঠনের ২০২৪ সালের নির্বাচন অবৈধ ও কারচুপিপূর্ণ এবং সভাপতি ময়িনুল ইসলামের কাছে ৬০ লাখ টাকা রয়েছে এমন অভিযোগ সুলেহনামায় করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ২৭ এপ্রিলের সংঘর্ষের গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করা হয়েছে। পাপ্পু, অপু, শাকিল আহমদসহ কয়েকজন বহিরাগত সংঘর্ষে উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি করা হয়।

শ্রমিক নেতারা প্রশাসনের প্রতি সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত তথ্য যাচাই করে প্রকৃত হামলাকারীদের শনাক্ত, নিহত দুই শ্রমিকের হত্যার বিচার এবং নিরপরাধ শ্রমিক ও নেতাদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।

এসএ/সিলেট