সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন

সভাপতি-সম্পাদকসহ ১৩ পদে বিএনপির জয়, জামায়াতসমর্থিত প্যানেল ১টিতে

post-title

ছবি: সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের জয় জয়কার। নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে আনন্দের বন্যা বইছে বিএনপির আইনজীবী প্যানেলে। নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতি ও সম্পাদকসহ ১৩টি পদেই বিজয়ী হয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেলের প্রার্থীরা। সদস্যের একটি পদে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামী–সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী।

সমিতির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এবারের নির্বাচনে আওয়ামীপন্থি আইনজীবীরা (সাদা প্যানেল) নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি।

সভাপতি পদে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন দুই হাজার ৯৮৪ ভোট পেয়ে ফের জয়ী হয়েছেন। তিনি বর্তমানে নোয়াখালী-১ আসনের এমপি। সম্পাদক পদে দুই হাজার ৫৮২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন আইনজীবী মোহাম্মদ আলী।

সমিতির দুই দিনব্যাপী বার্ষিক নির্বাচন ১৩ ও ১৪ মে অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ শেষে রাত দশটার দিকে ভোটগণনা শুরু হয়। গণনা শেষে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার রাত দুইটার দিকে নির্বাচন পরিচালনা–সংক্রান্ত উপকমিটির আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি  মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী এই ফলাফল ঘোষণা করেন।

সমিতির অন্যান্য পদে বিজয়ীরা হলেন-সহ-সভাপতির দুটি পদে মো. মাগফুর রহমান শেখ ও মো. শাহজাহান নির্বাচিত হয়েছেন। কোষাধ্যক্ষ পদে মো. জিয়াউর রহমান, সহ-সম্পাদকের দুটি পদে মাকসুদ উল্লাহ ও মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম মুকুল বিজয়ী হয়েছেন।

কার্যনির্বাহী কমিটির সাতটি সদস্য পদের মধ্যে ছয়টি পেয়েছে নীল প্যানেলের প্রার্থীরা। তাঁরা হলেন- এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী, এ কে এম আজাদ হোসেন, ওয়াহিদ আফরোজ চৌধুরী, মো. কবির হোসেন, মো. জিয়া উদ্দিন মিয়া ও মো. টিপু সুলতান।  অপর একটি পদ বিজয়ী হয়েছেন সবুজ  প্যানেলের আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

এবারের নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে ৪০ জন প্রার্থী হন। এবারের নির্বাচনে ১১ হাজার ৯৭ ভোটারের মধ্যে ৪ হাজার ৪৮ জন আইনজীবী ভোট দেন। 

নির্বাচনে বিএনপি জামাত ও এনসিপি তিনটি প্যানেল অংশগ্রহণ করলেও  আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। তবে এর বাইরে কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন।

গত ২৬ এপ্রিল সমিতির সাধারণ সদস্যদের এক বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। তবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা এই প্রক্রিয়াকে অগণতান্ত্রিক ও বেআইনি হিসেবে আখ্যায়িত করেন।


কাওছার আহমদ