যৌথ অভিযানে এক্সকেভেটর ও হুইল লোডার জব্দ, অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়; অভিযান অব্যাহত বলে জানিয়েছে নৌ-পুলিশ

ছাতকে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

post-title

সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ১নং ইসলামপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত রহমতপুর উত্তরপাড়া সংলগ্ন ইজারা বহির্ভূত নদীপথ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সকেভেটর ও একটি হুইল লোডার জব্দ করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বিকেল আনুমানিক ৫টা ৩০ মিনিটে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম ছাতক থানা ও ছাতক নৌ-পুলিশের সহায়তায় রহমতপুর উত্তরপাড়া সংলগ্ন নদীপথে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান পরিচালনা করেন।


অভিযানকালে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত (টপসয়েল কর্তনের জন্য) একটি এক্সকেভেটর ও একটি হুইল লোডার মালিকবিহীন অবস্থায় পাওয়া যায়। স্থানীয় সাক্ষী মো. ইসলাম উদ্দিন ও জাহাঙ্গীর আলমের উপস্থিতিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জব্দকৃত আলামত জব্দ করেন এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইসলাম উদ্দিনের জিম্মায় জিম্মানামা মূলে হস্তান্তর করেন।


অভিযান চলাকালে পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থলে জব্দকৃত আলামত ফেলে কৌশলে পালিয়ে যায়। ফলে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।


মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের বক্তব্য ও গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে জব্দকৃত আলামত ব্যবহার করে (টপসয়েল কর্তনের জন্য) ছাতক উপজেলার ১নং ইসলামপুর ইউনিয়নের রহমতপুর উত্তরপাড়া সংলগ্ন ইজারা বহির্ভূত নদীপথ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে আশপাশের এলাকার ভূ-প্রকৃতি ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের এ কর্মকাণ্ড বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।


এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, জব্দকৃত আলামতের তাৎক্ষণিক কোনো মালিক পাওয়া না যাওয়ায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে পারেননি। পরবর্তীতে মোবাইল কোর্ট মামলা নং-৬৪/২০২৬, তারিখ ২২ জুলাই ২০২৬-এর আদেশনামা প্রাপ্তির পর অভিযুক্তদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ শেষে ২৩ জুলাই ২০২৬ ছাতক থানায় মামলা দায়ের করা হয়।


মামলায় অভিযুক্তরা হলেন— আমির আলী (৩৮), জমির আলী (৩৫), আবুল বশর (৬০), আতাউর (৪০), চমক আলী (৬০), নজির আলী (৫৫), ধন মিয়া (৬২), মোহাম্মদ আলী (৫২), কামরুল (৩৮), রফিক (৫৫), জয়নাল (৪৬), এবাদুল্লাহ (৫৪), জাইদুল (৪২), আতাউর (৪৮), সুজন (৪৬) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন।


ছাতক নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বলেন, “আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। এদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহি উদ্দিন বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

টিএ/ছাতক