সিলেটের জিডিএফ’র প্রতিষ্ঠাতা রজব আলী...
জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের সাবেক সভাপতি ও গ্রীন ডিসএ্যাবল্ড ফাউন্ডেশন (জিডিএফ)’র প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক, সমাজসেবী, এপেক্সিয়ান মরহুম রজব আলী খান নজীবের...
সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন
ছবি সংগৃহীত
নির্মাণকাজ সমাপ্তির পর ঠিকাদারের পাওনা পরিশোধ না করার অভিযোগ উঠেছে মোগলাবাজারের গোটাটিকর জামিয়া তা’লীমুল কোরআন মাদ্রাসার মুহতামিম এমদাদুল হক নোমানীর বিরুদ্ধে।
টাকা চাইতে গেলে ঠিকাদারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এবং সালিসি সমঝোতা বৈঠকেও বসছেন না মুহতামিম। অন্যদিকে নির্মাণকাজের জন্য ঋণ করে বিনিয়োগ করায় পাওনাদারদের চাপেও চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন ওই ঠিকাদার।
শনিবার (৮ আগস্ট) সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন রংপুর জেলার সদর থানার কাজিপাড়া এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে ঠিকাদার জীবন রহমান। তিনি বর্তমানে সিলেট মহানগরীর শিববাড়ি এলাকার রাজু মিয়ার মার্কেটে বসবাস করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মোগলাবাজার থানার গোটাটিকর এলাকায় অবস্থিত জামিয়া তা’লীমুল কোরআন সিলেটের মসজিদ ও মাদ্রাসা ভবনের নির্মাণকাজে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। তৎকালীন ঠিকাদার কাজ শেষ করতে না পারায় মাদ্রাসার মুহতামিম এমদাদুল হক নোমানী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতি বর্গফুট ৭৫ টাকা রেটে তিনি নির্মাণকাজের দায়িত্ব নেন।
জীবন রহমানের দাবি, কাজ শুরু করার পর আগের ঠিকাদারের ফেলে যাওয়া অনেক কাজও তাকে দিয়ে করানো হয়। এসব কাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে মাদ্রাসার মুহতামিম তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন, পরে প্রকৌশলীদের সঙ্গে পরামর্শ করে তার ন্যায্য পাওনা পরিশোধ করা হবে। মুহতামিমের এমন আশ্বাসে তিনি নিজে ঋণ করে শ্রমিক ও নির্মাণসামগ্রী সংগ্রহ করে কাজ চালিয়ে যান।
তিনি বলেন, দীর্ঘ পরিশ্রমের পর চলতি বছরের মে মাস নাগাদ মসজিদ ও মাদ্রাসা ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন। কাজ শেষে তার মোট বিল দাঁড়ায় ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২৬০ টাকা। বিল উপস্থাপনের পর গত ৬ জুন মাদ্রাসার মুহতামিম তাকে ৫ লাখ ৪০ হাজার ৬০ টাকা পরিশোধ করেন। বাকি ৩ লাখ ৯৭ হাজার ২০০ টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে পরিশোধের কথা বলা হয়।
কিন্তু এক সপ্তাহ পর পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাকে পরে দেওয়া হবে বলে সময়ক্ষেপণ করা হয় । কয়েক দিন এভাবে সময় কাটানোর পর একপর্যায়ে তার বাকি টাকা পরিশোধে অস্বীকৃতি জানান মুহতামীম। তখন কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না করার অভিযোগ তুলে আর কোনো টাকা দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
পাওনা আদায়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন বলে জানান জীবন রহমান। তিনি বলেন, গোটাটিকর এলাকার ষাটঘর জামে মসজিদের পঞ্চায়েতের মুরব্বিদের সহযোগিতা চান তিনি। মুরব্বিরা বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসার মুহতামিমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের আসতে নিষেধ করেন মুহতামীম এবং পঞ্চায়েতের লোকজনের কোনো প্রয়োজন নেই বলে জানান।
জীবন রহমানের আরও অভিযোগ, পরবর্তীতে তাকে মাদ্রাসায় ডেকে নিয়ে খারাপ ভাষায় গালাগাল করা হয়। পাওনা টাকা আদায়ের বিষয়ে তাকে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং একপর্যায়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় । এ সংক্রান্ত একটি ভয়েস রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে ।
পরে পূর্বপরিচিত প্রকৌশলী আনিসুর রহমান ও প্রকৌশলী জসিম উদ্দিনের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন জীবন রহমান। তার দাবি, ওই দুই প্রকৌশলী মাদ্রাসার মুহতামিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে মাদ্রাসায় গিয়ে তার সম্পন্ন করা নির্মাণকাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং হিসাব করেন। এরপর তার পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য স্বাক্ষর ও সিলসহ একটি লিখিত সুপারিশ দেন।
তিনি বলেন, জুন মাসের শেষদিকে ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে বিষয়টি জানান। তাদের উদ্যোগে মাদ্রাসার মুহতামিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি বৈঠকের তারিখ দেন। ওই বৈঠকে মুহতামিম আগের দুই প্রকৌশলী যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তা মেনে নেওয়ার কথা জানান।
পরবর্তীতে প্রকৌশলী আনিসুর রহমানের জিন্দাবাজারস্থ অফিসে ২২ জুলাই বাদ মাগরিব উভয় পক্ষের বসার সিদ্ধান্ত হয়। জীবন রহমানের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে তিনি সেখানে উপস্থিত হলেও মাদ্রাসার মুহতামিম আসেননি।
এদিকে নির্মাণকাজের জন্য ঋণ করে অর্থ বিনিয়োগ করায় বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন বলে জানান জীবন রহমান। যেসব দোকান থেকে নির্মাণসামগ্রী নিয়েছেন, সেসব দোকানের মালিকসহ বিভিন্ন পাওনাদার টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছেন।
জীবন রহমান বলেন, মসজিদ ও মাদ্রাসার মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিষয় হওয়ায় এবং এলাকার সম্মানের কথা বিবেচনা করে এতদিন আদালতের শরণাপন্ন হননি। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেছেন।
তিনি সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি মানবিক দিক বিবেচনা করে তার ন্যায্য পাওনা আদায়ে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা চান।
সংবাদ সম্মেলনে জীবন রহমান জামিয়া তা’লীমুল কোরআন সিলেটের মুহতামিম এমদাদুল হক নোমানীর প্রতি তার পাওনা ৩ লাখ ৯৭ হাজার ২০০ টাকা অবিলম্বে পরিশোধের আহ্বান জানান।
এসএ/সিলেট