সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক

সুস্থ সংস্কৃতিচর্চা সমাজ আলোকিত করে, মানবিক মূল্যবোধ জাগায়

post-title

ছবি সংগৃহীত

সিলেট সংস্কৃতির উর্বরভূমি। এই অঞ্চলের মরমি সাধক, কবি ও শিল্পীরা বাংলা সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন। সেই ঐতিহ্যকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের সংস্কৃতিচর্চায় উৎসাহিত করতে হবে।

সিলেটের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিতে তরুণদের পাশে থাকবে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এসব কথা বলেছেন।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিলেট শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে গীতিনন্দন সিলেটের সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘মেঘের খেয়া’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে এবং এম. সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামে সিঁথিকণ্ঠ নৃত্যাঙ্গনের পঞ্চম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘নৃত্য অর্ঘ্য’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিসিক প্রশাসক বলেন, সিলেটের সংস্কৃতিচর্চার রয়েছে দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্য। এ অঞ্চলের হাসন রাজা, রাধারমণ দত্ত, শাহ আবদুল করিম, দুর্বিন শাহ ও সৈয়দ শাহনুরসহ বহু সাধক, কবি ও শিল্পী বাংলা ভাষাভাষী মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। তাঁদের সৃষ্টিকর্ম আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। এই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, সুস্থ সংস্কৃতিচর্চা শুধু গান, নৃত্য কিংবা বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সমাজকে আলোকিত ও মানবিক করে। সমাজ সংস্কার এবং একটি সুন্দর, সম্প্রীতির সমাজ গঠনে সাংস্কৃতিক কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই তরুণ প্রজন্মকে সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

সিসিক প্রশাসক বলেন, বিভিন্ন সংগঠনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। চা শ্রমিকসহ সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সন্তানদের সংস্কৃতিচর্চার সুযোগ করে দেওয়া হলে তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটবে। এ ধরনের উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে মাদক ও নানা সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, তরুণ ও ক্ষুদে শিল্পীদের উৎসাহিত করার দায়িত্ব সমাজের সবার। সিলেটের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও বেগবান করতে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সম্ভব সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, তরুণদের উদ্যোগে বড় পরিসরে সাংস্কৃতিক আয়োজন করা নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা যে উদ্যম ও আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসছেন, তা সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সিলেটের ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ ও দেশ-বিদেশে তুলে ধরতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘মেঘের খেয়া’ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন গীতিনন্দন সিলেটের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মমিতা সিনহা। বক্তব্য দেন গীতবিতান বাংলাদেশের অধ্যক্ষ ও বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী অনিমেষ বিজয় চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও নির্মাতা নিরঞ্জন দে যাদু এবং গীতিনন্দন সিলেটের উপদেষ্টা নন্দলাল গোপ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি প্রত্যুষ তালুকদার। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নির্বাচিতা ও উচ্ছ্বাস।

অন্যদিকে, এম. সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামে ‘সিঁথিকণ্ঠ নৃত্যাঙ্গনের’ পঞ্চম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘নৃত্য অর্ঘ্য’ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অসিত বরণ দাশ। বক্তব্য দেন সিঁথিকণ্ঠ নৃত্যাঙ্গন সিলেটের মহাপরিচালক শচীন চন্দ্র দীপংকর। অনুষ্ঠানে নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন সংগঠনের শিল্পীরা।

এসএ/সিলেট