মানববন্ধন-বিক্ষোভে কয়েক শত মানুষের অংশগ্রহণ; পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি

ছেলের মদদে শ্বশুর হত্যা! ফাঁসির দাবিতে দোয়ারাবাজারে ফুঁসে উঠল এলাকাবাসী

post-title

সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ছেলের মদদে পুত্রবধূ কর্তৃক শ্বশুর হত্যার অভিযোগে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসে ওঠা স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে কয়েক শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ শেষে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে স্থানীয় বাসিন্দা আরজু মিয়ার সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন নরসিংপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সামছুল হক নমু, ইসলামপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হেকিম, সমাজসেবক ডা. আবুল কালাম আজাদ, কবির আহমদ, ইউপি সদস্য আফরোজা খানম, সাবেক ইউপি সদস্য বইছুর-মা, মো. ফরহাদ হোসেন, হাবিবুল্লাহ, রুহেল আহমদ, কবির মিয়া, পূর্ব চাইরগাঁও গ্রামের সমাজসেবক হেলার আহমদ ও নুরু মিয়াসহ স্থানীয়রা।

বক্তারা বলেন, ছেলের মদদে বাবাকে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত জঘন্য, নিন্দনীয় ও মানবতাবিরোধী। এমন ঘটনায় সমাজে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের নির্মম ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারে না ঘটে, সে জন্য হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

তারা আরও বলেন, হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি নিশ্চিত করা হলে সমাজে অপরাধীদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি হবে। কোনো ছেলে যেন তার বাবাকে হত্যার সাহস না পায় এবং কোনো পুত্রবধূ যেন এ ধরনের অপরাধে জড়ানোর সাহস না করে, সেজন্য গ্রেপ্তার আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির পাশাপাশি পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা

উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় নিহতের নাতনি মোছা. আছমা বেগম (২৬) বাদী হয়ে নিহতের প্রবাসী ছেলে ইসমাঈল হোসাইন, পুত্রবধূ হোসনা বেগম, হাবিবনগর গ্রামের খায়রুল হকের ছেলে রুহুল আমিন, কুদ্দুস মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম এবং জিয়াউর রহমানসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করে দোয়ারাবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরে নিহতের স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুত্রবধূ হোসনা বেগমকে সন্দেহজনকভাবে থানা হেফাজতে নেয় পুলিশ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার রাতেই পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

এলাকাবাসীর দাবি, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে এবং আদালতের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

টিএ/ছাতক