সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়া পাপলুর মূল্যায়ন চায় তৃণমূলের কর্মীরা

post-title

সংগৃহিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সিলেট জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাবেক আহবায়ক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু। কিন্তু দলের বৃহৎ স্বার্থে হাইকমান্ডের নির্দেশে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। মনোনয়ন না পেলেও তিনি দলের জোটের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে কাজ করেন। নির্বাচনে বিএনপি দুই তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সরকার গঠন করে।

সরকার গঠনের ৬ মাসের মধ্যেই সারাদেশে ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন শুরু করেছে বিএনপি। সিলেটেরও অনেক নেতা ইতোমধ্যে মূল্যায়িত হয়েছেন। এ পর্যন্ত সিলেট বিএনপির পাঁচ নেতাকে সিলেটের বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পদায়ন করা হয়েছে। এরা সবাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। 

সিদ্দিকুর রহমান পাপলু বিএনপির রাজনীতিতে একজন পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত। দলের দুঃসময়ে জীবন বাজি রেখে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে তার ত্যাগ ও অবদানের কথা বিবেচনা করে মূল্যায়ন চায় তৃণমূলের কর্মীরা।

মিফতাহ সিদ্দিকী গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।

বিএনপি সূত্র জানায়, বিএনপি সরকার গঠনের পর গত ২৩ ফেব্রæয়ারি সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীকে। তিনি সিলেট-৩ আসনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। একই আসনে বিএনপির আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এমএ সালামকে গত জুনে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান করা হয়। এর আগে গত মার্চে সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক করা হয় বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীমকে। তিনি সিলেট-৬ আসনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।

এছাড়া গত জুনে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান করা মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীকে।

চলতি আগস্ট মাসে মূল্যায়িত হন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী ও মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ বদরুজ্জামান সেলিম। রোববার (৯ আগস্ট) এক প্রজ্ঞাপনে মিফতাহ সিদ্দিকীকে সিলেট ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে তাঁকে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে বদরুজ্জামান সেলিমকে সিলেট অঞ্চলের গ্যাস সরবরাকারী প্রতিষ্ঠান জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের পরিচলক পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এরা দু’জন সিলেট-৪ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।

কানাইঘাট পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল হোসেন বুলবুল বলেন, সিদ্দিকুর রহমান পাপলুর মতো ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হলে দল শক্তিশালী হবে। গত ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে এরা জীবন বাজি রেখে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন।

কানাইঘাট পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ও সিলেট ল’ কলেজ ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া আহমদ বলেন, স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে এখন পর্যন্ত রাজপথে সক্রিয় রয়েছেন সিদ্দিকুর রহমান পাপলু। বিএনপির এমন নিবেদিত নেতাকে মূল্যায়ন করা হলে তৃণমূলের কর্মীরা উজ্জ্বীবিত হবে।

কাওছার আহমদ