শিশুদের নিরাপদ বিদ্যালয় নিশ্চিত করা একটি স্বাভাবিক অধিকার হওয়া উচিত: বিভাগীয় কমিশনার

post-title

ছবি সংগৃহীত

প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ বিদ্যালয়, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে বিশ্বাস ও করণীয়” শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরীর উপশহরস্থ আইডিয়া অফিসে আয়োজিত সভায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, উন্নয়নকর্মী, জনপ্রতিনিধি, আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

আইডিয়ার সভাপতি ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ’র সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মশিউর রহমান বলেন, প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ বিদ্যালয় নিশ্চিত করা একটি স্বাভাবিক অধিকার হওয়া উচিত। নারী ও শিশুদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাদের পিছিয়ে পড়ার সামাজিক কারণগুলো চিহ্নিত করে সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহŸান জানান তিনি।

সভায় গণসাক্ষরতা অভিযানের প্রতিনিধি রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, নিরাপদ বিদ্যালয় নিশ্চিত করতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রশাসন, স্থানীয় সরকার, উন্নয়ন সংস্থা, গণমাধ্যম ও সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি জানান, নিরাপদ বিদ্যালয় বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং এ কাজে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইডিয়া’র নির্বাহী পরিচালক নজমুল হক। তিনি আইডিয়ার বিভিন্ন শিক্ষা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম তুলে ধরার পাশাপাশি নিরাপদ বিদ্যালয় নিশ্চিত করতে বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক যোগাযোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক তানিয়া হক। তিনি বলেন, শুধু বিদ্যালয়ের দরজা বন্ধ করে রাখলেই বিদ্যালয় নিরাপদ হয় না; শিশুর স্বাধীনতা, মর্যাদা, মানসিক নিরাপত্তা, অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করাই নিরাপদ বিদ্যালয়ের মূল ভিত্তি। তিনি শারীরিক, মানসিক, যৌন নির্যাতন, সহপাঠী কর্তৃক হয়রানি, বিদ্যালয়ে বুলিং এবং ডিজিটাল মাধ্যমে হয়রানিসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার ঝুঁকি তুলে ধরেন।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়য়ের অধ্যাপক ড. মজহারুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ বিদ্যালয়ের ধারণাকে শুধু শারীরিক নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিশুদের মর্যাদা, সমঅধিকার, অন্তর্ভুক্তি, ডিজিটাল নিরাপত্তা, মানসিক সুরক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বাল্যবিবাহ, নারী ও কন্যাশিশুকে দোষারোপ, সহপাঠীদের হয়রানি, ডিজিটাল মাধ্যমে হয়রানি, শিক্ষকভীতি, অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা এবং সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার বিষয় তুলে ধরেন। পরিবার ও বিদ্যালয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং নারী ও শিশুর প্রতি সম্মানজনক আচরণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সভা থেকে একটি সমন্বিত শিশু সুরক্ষা কাঠামো প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, নীতি বাস্তবায়ন জোরদার, অভিযোগ ও প্রতিকার ব্যবস্থা কার্যকর করা এবং পরিবার, বিদ্যালয়, সমাজ ও গণমাধ্যমের সমন্বিত অংশগ্রহণের আহŸান জানানো হয়। মূল বার্তা“কোনো শিশু যেন বিদ্যালয়ে যেতে ভয় না পায়—প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও সহিংসতামুক্ত বিদ্যালয় নিশ্চিত করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।”


এসএ/সিলেট