কানাইঘাটে প্রবাসীর বাড়িতে হামলা, অন্ত:সত্ত¡া নারী সহ ১৫ জন আহত, নগদ টাকাসহ মালামাল লোটপাট

post-title

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের কানাইঘাটে পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রবাসীর বাড়িতে হামলা চালিয়েছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। এতে অন্তঃসত্ত¡া নারী সহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় হামলাকারীরা নগদ টাকা সহ মালামাল লুটপাট করেছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। মঙ্গলবার (৫ মে) রাত অনুমান সাড়ে ১০টার দিকে ৫নং বড়চতুল ইউনিয়নের কুড়ারপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রবাসীর চাচা ফখরুল ইসলাম বাদী হয়ে ৪১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত নামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামী করে কানাইঘাট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে জানা যায়, কুড়ারপার গ্রামে এজমাল ফান্ড, হিসাব ও বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে মুজিবুর রহমান, আলী আহমদ ও মুহিবুর রহমান গংদের সাথে প্রবাসী মিসবাহ উদ্দিনের বাবা জবরুল ইসলাম ও তার চাচা ফখরুল ইসলাম গংদের মধ্যে বিরোধ ও মনোমালিন্য ছিল। প্রায় সাড়ে ৩ মাস আগে বিষয়টি স্থানীয় ৫ নং বড়চতুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক চৌধুরী ও গণ্যমান্য মুরব্বীয়ানগণ স্থানীয়ভাবে আপোষ নিষ্পত্তি করিয়া দেন। কিন্তু এরপরও মুজিবুর রহমান গংরা থামেনি। তারা স্থানীয় সালিশ বিচারের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রতিপক্ষ জবরুল ইসলাম ও ফখরুল ইসলাম গংদের ঘায়েল করতে এলাকা থেকে ‘একঘরি’ করার ঘোষণা দেয়। গ্রামের রাস্তা-ঘাটে যাতায়াত ও মসজিদে নামায আদায় করতে বাধা দিয়ে নানাভাবে হুমকি প্রদান করে। এমনকি ছোট্ট বাচ্চাদেরকেও মক্তবে আরবি শিক্ষায় নিষেধ দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গত ২০ এপ্রিল ফখরুল ইসলাম কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর মুজিবুর রহমান, আলী আহমদ ও মুহিবুর রহমান গংরা আরও ক্ষেপে যায়। আক্রোশান্বিত হয়ে হামলার পরিকল্পনা নেয়। মঙ্গলবার (৫ মে) রাত অনুমান সাড়ে দশটার দিকে পরিকল্পিতভাবে গ্রামের রাস্তায় ফখরুল ইসলামের ওপর হামলা চালায় মুজিবুর রহমান গংরা। প্রাণ বাঁচাতে ফখরুল ইসলাম তার ভাই জবরুল ইসলামের বসত ঘরে আশ্রয় নেয়। এরপর বাড়িতে প্রবেশ করে তান্ডব চালায়। ঘরের ভিতরে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করে। ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চা ও নারীরা আতংকে চিৎকার করতে থাকেন। পাশ^বর্তী লখাইরগ্রাম, বড়চতুল ও মালিগ্রাম সহ আশপাশের লোকজন এসে তাদেরকে রক্ষা করেন। এসময় প্রবাসী মিসবাহ উদ্দিনের অন্তঃসত্ত¡া স্ত্রী সহ অন্ত ১৫ নারী-পুরুষ ও ছোট্ট বাচ্চা আহত হয়েছেন। আহতদেরকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে নিকটস্থ কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। আহতদের মধ্যে জাবেল আহমদের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। 

এদিকে, ফখরুল ইসলামকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসা একই এলাকার হাসন মিয়ার বাড়িতেও হামলা চালায় মুজিবুর রহমান গংরা। ঘটনার খবর পেয়ে কানাইঘাট থানা পুলিশ সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এ ঘটনায় বুধবার প্রবাসীর চাচা ফখরুল ইসলাম বাদী হয়ে ৪১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত নামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামী করে কানাইঘাট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

আসামীরা হলেন- কুড়ারপারের মৃত হরমুজ আলীর পুত্র মুজিবুর রহমান ও তার পুত্র সুয়েবুর রহমান,

 মৃত আবুল হোসেনের পুত্র আলী আহমদ, মৃত আব্দুর রহমানের পুত্র মুহিবুর রহমান, মৃত ফরমুজ আলীর পুত্র মুহিবুর রহমান, মুজিবুর রহমানের পুত্র সানাজ উদ্দীন ও মুন্না, আলী আহমদের পুত্র সালমান, লুকমান, রহিম উদ্দিন, আবুল হুসেনের পুত্র খলিলুর রহমান ও তার দুই পুত্র জুবায়ের ও গুলজার, বশির আহমদের পুত্র শেলু, নুর আহমদের পুত্র বাবুল আহমদ ও তার পুত্র তুফায়েল আহমদ, আব্দুর রহমানের পুত্র জয়নাল, মৃত মারিছ উদ্দীনের পুত্র সুলেমান, লুকমান, আবু, সুফিয়ান, মৃত জমির উদ্দীনের পুত্র নিজাম উদ্দিন, মৃত আব্দুর রবের পুত্র আব্দুর রকিব, আব্দুর রকিবের পুত্র তারেক, মৃত ফয়জুল হকের পুত্র এবাদুর রহমান, মৃত মছদ্দর আলীর পুত্র শাহাব উদ্দীন, শাহাব উদ্দিনের পুত্র মিজান আহমদ, রাহান, আবুল হাছান, মৃত মছদ্দর আলীর পুত্র সিরাজ উদ্দীন ও তার পুত্র বাজিদ, মৃত ফয়জুর রহমানের পুত্র নজরুল ও তার পুত্র তুফায়েল, ফরমুজ আলীর পুত্র মুহিবুল হক ও তার পুত্র শাহ আলম, আব্দুর রবের পুত্র বিলাল আহমদ, বিলালের পুত্র ফাহাদ, আব্দুল লতিফের পুত্র ডালিম, রুমান, আসাদ ও মৃত রকিব আলীর পুত্র মুতলিব সহ অজ্ঞাতনামা আরো ২০/২৫ জন।

অন্তঃসত্ত¡া পুত্র বধূর ওপর হামলার অভিযোগ এনে জবরুল ইসলাম বলেন, হামলা থেকে শিশু-নারী কেউ রেহাই পায়নি। আমার ছেলের বিদেশ থেকে পাঠানো দু’লক্ষ টাকা ঘরের চাউলের ড্রামে রক্ষিত ছিল। হামলার সময় সুয়েবুর রহমান বসত ঘরে ঢুঁকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার খুঁজতে থাকে। আমরা বাধা দিতে চাইলে বটি দা উচিয়ে ভয় দেখিয়ে ড্রামের ভিতরে থাকা দু’লক্ষ টাকা ও দামি মোবাইল সেট নিয়ে যায়। আমাদের সুর-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে সুয়েবুর রহমান তার দলবল নিয়ে অস্ত্র উচিয়ে স্থান ত্যাগ করে। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মুতলিব বলেন, আমাদের এলাকার অধিকাংশ মানুষ সহজ-সরল ও স্বল্প আয়ের। কিন্তু মুজিবুর রহমান ও আলী আহমদ গংরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় সবসময় দূর্বল মানষের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালায়। ন্যায়ের পক্ষে কথা বলায় তারা আমাকেও হুমকি দিচ্ছে। আমি নিজেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

এদিকে, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক চৌধুরী। তিনি বলেন, কুড়ারপার গ্রামের বিরোধ আমরা স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করে দিয়েছিলাম। সবার মধ্যে আন্তরিকতা ও সম্প্রীতি তৈরীর জন্য গ্রামবাসীর অংশ গ্রহণে মসজিদে বড় অংকের টাকার শিন্নিরও আয়োজন করেছিলাম। কিন্তু কিছুতেই কাজ হয়নি। মুজিবুর রহমান ও আলী আহমদ গংরা শান্ত এলাকাকে অশান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। তারা স্থানীয় মুরব্বীদের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ফখরুল ইসলাম ও তার স্বজনদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকার কোনো ধরনের অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়না। সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এ ধরনের কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার আহবান জানাচ্ছি।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, স্বাক্ষীর কাজে তিনি গতকাল (বুধবার) সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার জেলায় গেছেন। খোঁজ নিয়ে সার্বিক বিষয়ে পরে জানাচ্ছেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।


# কাওছার আহমদ, 


নিজস্ব প্রতিবেদক