প্রভাবশালী চক্রের দাপটে হারাচ্ছে সরকার রাজস্ব, প্রশ্নবিদ্ধ প্রশাসনের ভূমিকা

ছাতকে প্রকাশ্যে অবৈধ বেচাকেনা, রহস্যজনক নীরবতায় প্রশাসন

post-title

সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ছাতক উপজেলা জুড়ে ইজারা বহির্ভূত পশুর হাট বসানোর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র প্রকাশ্যে একাধিক পশুর হাট পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সরকার যেমন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন বৈধ ইজারাদাররা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর ঈদুল আজহা উপলক্ষে উপজেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ১২টি পশুর হাট বসেছিল। এর মধ্যে ৩টি ছিল স্থায়ী এবং পৌরসভার ১টিসহ ৯টি ছিল অস্থায়ী হাট। তবে চলতি বছর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে মাত্র ৫টি হাটের। এর মধ্যে গোবিন্দগঞ্জ ও জাউয়াবাজার দুটি স্থায়ী পশুর হাট এবং ছাতক পৌরসভা, ইসলামবাজার ও চৌমুহনী বাজারে অস্থায়ী হাট পরিচালনার অনুমতি রয়েছে। অজ্ঞাত কারণে উপজেলার আরও ৮টি অস্থায়ী হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে পশুর হাট বসানো হচ্ছে। গত রোববার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের ধারণ নতুন বাজারে ইজারা বহির্ভূত পশুর হাট বসে। এছাড়া সোমবার দোলারবাজার ইউনিয়নের বুরাইয়া বাজারেও একইভাবে পশুর হাট পরিচালিত হয়। এ নিয়ে আগের দিন মাইকিং করে ব্যাপক প্রচারণাও চালানো হয়। অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এ পরিস্থিতিতে বৈধ ইজারাদারদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, সরকারিভাবে ইজারা নিয়ে হাট পরিচালনা করতে গিয়ে তারা বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছেন। কিন্তু অবৈধভাবে পরিচালিত হাটগুলোর কারণে ক্রেতা-বিক্রেতারা সেদিকে ঝুঁকে পড়ায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নিয়মতান্ত্রিকভাবে এসব পশুর হাট ইজারা দেওয়া হলে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব পেত। কিন্তু প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ছত্রচ্ছায়ায় অবৈধ হাট পরিচালিত হওয়ায় একদিকে যেমন সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে লাভবান হচ্ছে একটি বিশেষ মহল।

এ বিষয়ে মো. মহিউদ্দিন বলেন, “উপজেলায় অনুমোদিত স্থায়ী পশুর হাট দুটি হলো গোবিন্দগঞ্জ ও জাউয়াবাজার। এছাড়া ছাতক পৌরসভা, ইসলামবাজার ও চৌমুহনী বাজারে অস্থায়ী হাটের অনুমতি রয়েছে। এর বাইরে কোথাও পশুর হাট বসানোর অনুমোদন নেই।”

অবৈধ পশুর হাটের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “ইতোমধ্যে এক স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আজ বুরাইয়া বাজারেও অভিযান চালানো হবে। কেউ অবৈধভাবে পশুর হাট বসালে বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

টিএ/ছাতক