জকিগঞ্জে এলজিইডির সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই ভাঙন

post-title

ছবি সংগৃহীত

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে এলজিইডির (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) নির্মাণ ও সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই রাস্তা ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে উন্নয়নকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

একই সঙ্গে তারা যথাযথ তদারকির অভাব, অনিয়ম ও সম্ভাব্য দুর্নীতির অভিযোগ এনে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ যথাযথভাবে তদারকি করা হয় না। ফলে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও কাজের অনিয়মের কারণে সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই অনেক সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

এমন অভিযোগ উঠেছে উপজেলার ৮ নম্বর কসকনকপুর ইউনিয়নের ইউনিয়ন অফিস বাজার থেকে মুন্সিবাজার সড়ক নিয়ে। সরকারি অর্থায়নে মাত্র দুই থেকে তিন মাস আগে সড়কটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ শেষে একটি টেকসই সড়ক পাবেন—এমন প্রত্যাশা ছিল এলাকাবাসীর।

কিন্তু সংস্কারের অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, রাস্তার প্রান্ত ভেঙে যাচ্ছে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই কাদাপানির কারণে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, কাজের মান যথাযথ ছিল কি না এবং সরকারি অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হয়েছে কি না।

একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে সুলতানপুর ইউনিয়নের গঙ্গাজল–রসুলপুর (ছয়ঘরি) সড়ক নিয়েও। স্থানীয়দের ভাষ্য, পিচঢালাইয়ের কাজ শেষ হলেও গার্ডওয়ালের কাজ চলাকালেই সড়কের পিচ উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে সড়কটি যান চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এলাকাবাসীর দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও বারহাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মস্তাক আহমদ চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সমস্যার কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি।

গঙ্গাজল অটোরিকশা শ্রমিক সমিতির দায়িত্বশীলরা জানান, কয়েক মাস আগেই সড়কটির কাজ শেষ হয়েছে। অথচ এখনই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজারো মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কের এমন বেহাল অবস্থা উন্নয়নকাজের মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের প্রতি এলাকাবাসীর আহ্বান, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে নিম্নমানের কাজ ও সম্ভাব্য অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত উন্নয়নকাজ কয়েক মাসের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত টেকসই সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।

এসএ/সিলেট