দীর্ঘ দুই যুগের অবহেলায় মৃত্যুফাঁদে পরিণত চরমহল্লা ভল্লবপুরের মনিরখাল সেতু

post-title

ছবি সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভল্লবপুর গ্রামের মনিরখাল সেতুটি দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

সেতুর বিভিন্ন স্থানের ঢালাই খসে রড বেরিয়ে এসেছে, বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে এবং দুই পাশের রেলিং সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পারাপার করছেন শিক্ষার্থী, পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির কোনো সংস্কার না হওয়ায় এটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সামান্য অসাবধানতাই বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সেতুটি আরও ভয়ংকর রূপ ধারণ করে।

মনিরখাল সেতুটি দোয়ারাবাজার উপজেলার গুরুসপুর, নিয়ামতপুর, কান্দাগাঁও, চমুনা, গোয়াড়াই, বঙ্গবন্ধু, শিবপুর, নোয়াগাঁও ও খাইনঞ্চনপুরসহ ছাতক উপজেলার ভল্লবপুর, গারুচুরা এবং আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রতিদিন চরমহল্লা টেটিয়ারচর বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে হাজারেরও বেশি মানুষ এবং অসংখ্য যানবাহন এই সেতু ব্যবহার করে।

এলাকাবাসী জানান, প্রায় দুই যুগ আগে নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় প্রতিনিয়ত জনদুর্ভোগ বাড়ছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

মানববতাই এলাকাবাসী ছাতক-দোয়ারাবাজার আসনের সংসদ সদস্য কলিমউদ্দিন আহমেদ মিলনের কাছে জরাজীর্ণ সেতুটি অপসারণ করে দ্রুত একটি নতুন, টেকসই ও আধুনিক সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে হাজারো মানুষ।

এলাকাবাসীর পক্ষে বক্তব্যে রাখেন চরমহল্লা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন, আলী আহমদ,ছালিক উদ্দীন, জমির উদ্দীন, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মুশাহিদ আলী, তারেক আহমদ, জামাল উদ্দীন, নাজিম উদ্দীন, আলি নুর, সোহাগ বিল্লাহ, জুয়েল আহমদ, জামিল আহমদ, কামরুলসহ আরও অনেকই উপস্থিত ছিলেন।



এসএ/সিলেট