ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ : ৬ জনের পরিচয় মিলেছে

post-title

ছবি সংগৃহীত

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো- ব- ১৫-২৫৬৩) একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার (ঢাকা মেট্রো- ব- ১২-৫৯৮৭) কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরীনা লক্ষ্মীপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৫০), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বারি মিয়ার পুত্র আবুল হোসেন (৪৬), কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার চণ্ডীবের গ্রামের কালু মিয়ার মেয়ে সঙ্গীত শিল্পী পেহেলি ভৈরবী (১৯), কুমিল্লার লাকসাম থানার রফিকুল ইসলামের পুত্র আরমান হোসেন রাহিম (১৯)। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা বিক্রমপুরের জাহাঙ্গীর শেখের কন্যা জাইফা ইসলাম (৩) এবং সিলেট মহানগরীর সোবহানিঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২)-কে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া বাকি তিন জনের আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে পরিচয় শনাক্তকরণের কাজ করছে পিবিআই। এছাড়া এই ঘটনায় আহত হয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩ জন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন- ওয়াব (৪৫), মনসুর (৩৪), আতিকুল ইসলাম (৪৮), বাবুল (৪০), মফিজ মিয়া (৫৫), সাজিদ নুর (৪৫), নুরুন্নাহার (৪০), মুক্তার হোসেন (৬৫), জাহাঙ্গীর (২৮), আফজল (৩০), আফরোজা (৩৮), মন্টু (৩০), রাজু (৫৫)।

ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স (তাজপুর) স্টেশনের স্টেশন অফিসার অপু মিয়া জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন এবং আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২০ হাজার করে অর্থ সহায়তা করা হয়।

ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মোস্তফা জানান, দুর্ঘটনার পর থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। নিহতদের মরদেহ এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিহ্রস্ত দুটি বাস জব্দ করে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

এসএ/সিলেট