কালারুকা ইউপি চেয়ারম্যান অদুদ আলমের বিরুদ্ধে ইউএনও’র কাছে ৬ মেম্বারের লিখিত অভিযোগ

ছাতকে ২০ লাখ টাকার এডিপি-রাজস্ব প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

post-title

সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ৪নং কালারুকা ইউনিয়ন পরিষদের ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ও রাজস্ব খাতের মোট ২০ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তের অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান অদুদ আলমের বিরুদ্ধে।

পরিষদ সদস্যদের অন্ধকারে রেখে একক সিদ্ধান্তে প্রকল্প তালিকা প্রস্তুত ও দাখিলের প্রতিবাদে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ক্ষুব্ধ ইউপি সদস্যবৃন্দ।

ইউএনও বরাবরে দেওয়া লিখিত অভিযোগে ইউপি সদস্যরা উল্লেখ করেন, কালারুকা ইউনিয়ন পরিষদের ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের এডিপি বাবদ ১০ লাখ টাকা এবং রাজস্ব খাতের ১০ লাখ টাকা সহ সর্বমোট ২০ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদে সাধারণ সভা কিংবা উন্মুক্ত আলোচনা করে প্রকল্পের অগ্রাধিকার তালিকা নির্ধারণ করার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান অদুদ আলম তা করেননি বলে অভিযোগ করেন সদস্যরা।

অভিযোগে দাবি করা হয়, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যান ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে তার নিজস্ব মনোনীত ব্যক্তিদের নামে এসব প্রকল্পের বরাদ্দ দিয়েছেন। মেম্বারদের দাবি, পরিষদকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে উপজেলা কার্যালয়ে দাখিল করা এই প্রকল্প তালিকার বিষয়ে তারা বিন্দুমাত্র অবগত ছিলেন না।

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অধিকার খর্ব করে চেয়ারম্যানের এমন একচ্ছত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণকে ‘স্বৈরাচারী আচরণ’ বলে আখ্যা দেন তারা। এতে এলাকার প্রকৃত উন্নয়ন বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সদস্যরা।

এমতাবস্থায় অনতিবিলম্বে বিতর্কিত ও পক্ষপাতদুষ্ট এই প্রকল্প তালিকা বাতিল করে সকল সদস্যের উপস্থিতিতে উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে নতুন তালিকা চূড়ান্ত করতে ইউএনও’র নিকট আইনগত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান ৬ জন ইউপি সদস্যবৃন্দ।

দাখিলকৃত অভিযোগে কালারুকা ইউনিয়নের একাধিক ওয়ার্ডের সাধারণ ৬ জন সদস্য সিল ও স্বাক্ষর প্রদান করেছেন। এ নিয়ে স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে ছাতক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহি উদ্দিন জানান, “লিখিত অভিযোগটি পাওয়া গেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ বিষয়ে জানতে কালারুকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অদুদ আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

টিএ/ছাতক