কুয়েতে বীরমুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার...
বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং সাবেক গৃহায়ণ ও...
সংগৃহিত
দেশ সেবার ব্রত নিয়ে বিলেতের মাটিতে ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি ইউকে’ এর স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়েছে। বুকে দেশপ্রেম থাকলে প্রবাসে বসবাস করেও দেশের মানুষের কল্যাণে যে কাজ করা যায় তা এই সংগঠন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রবাসী কমিউনিটি নেতারা প্রমাণ করেছেন। সত্যিকার অর্থে ঐক্য, সহযোগিতা, জনসেবা ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রবাসীরা।
দেশ, কমিউনিটি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণে বাংলাদেশি অধ্যুষিত জনপদ ওল্ডহ্যাম শহরে ১৯ মে (মঙ্গলবার) সংগঠনটির পথচলা শুরু করে। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি কমিউনিটির ইতিহাস শুধু অভিবাসনের ইতিহাস নয়; এটি সংগ্রাম, আত্মপ্রতিষ্ঠা, পরিশ্রম, সামাজিক নেতৃত্ব এবং মাতৃভূমির প্রতি অগাধ ভালোবাসার এক অনন্য উপাখ্যান। বিদেশের মাটিতে বসবাস করেও বাংলাদেশের মানুষের হৃদস্পন্দন যে দেশের সঙ্গেই জড়িয়ে থাকে, তারই আরেকটি ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা গেল ওল্ডহ্যামে ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি ইউকে’-এর মর্যাদাপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। ম্যানচেস্টারস্থ বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশনের সহকারী হাই কমিশনার জোবায়েদ হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত উক্ত অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন।
২১ মে (বৃহস্পতিবার) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তথ্যটি নিশ্চিত করেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ড. জাকি মোস্তফা টুটুল।
সংগঠনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মহসিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কোল্ডহার্স্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহিব উল্লাহ, কাউন্সিলর আব্দুল জব্বার, কাউন্সিলর মহন মিয়া, ম্যানসফিল্ডের কাউন্টি কাউন্সিলর ফয়সল চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর মহিব উদ্দিন, জিলাদ মিয়া, আব্দুল মালিক, এন. এইচ. এস গভর্নর জনাব মোহাম্মদ শাহ জাহান, আফসর শামীম, আফজাল রব্বানী, এনামুল কবির সুমন প্রমুখ।
সংগঠনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ড. জাকি মোস্তফা টুটুল।
এদিকে, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি ইউকের মঞ্চে দেখা গেছে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ, ভিন্ন অঞ্চল, ভিন্ন পেশা ও ভিন্ন সামাজিক পটভূমির মানুষকে একই লক্ষ্য ও একই চেতনায় একত্রিত হতে। সংগঠনের কমিটিতেও রয়েছে বহুমাত্রিক প্রতিনিধিত্ব। সেখানে দলীয় পরিচয়ের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে জাতীয় স্বার্থ, ব্যক্তিকেন্দ্রিকতার চেয়ে অগ্রাধিকার পেয়েছে কমিউনিটির কল্যাণ, আর বিভক্তির রাজনীতির পরিবর্তে গুরুত্ব পেয়েছে ঐক্যের দর্শন। আজকের বিশ্বে, বিশেষত প্রবাসী সমাজে, এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী বার্তা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব পায় সিলেট ওসমানী আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে বিদেশি এয়ারলাইন্সের পূর্ণ কার্যক্রম চালুর দাবিটি। সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট সহকারী হাই কমিশনের মাধ্যমে আবেদনও প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন বক্তারা।
সিলেট অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী যুক্তরাজ্য, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে বসবাস করেন। কিন্তু এখনো অধিকাংশ যাত্রীকে ঢাকার ওপর নির্ভর করতে হয়, যা দীর্ঘ ভোগান্তি, অতিরিক্ত ব্যয় এবং অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদেশি এয়ারলাইন্স সরাসরি সিলেটে পরিচালনার সুযোগ পেলে যাত্রীসেবা যেমন সহজ হবে, তেমনি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের মাধ্যমে টিকিটের মূল্যও কমবে।
শুধু তাই নয়, সিলেট থেকে আন্তর্জাতিক কার্গো অপারেশন সম্প্রসারিত হলে চা, সাতকরা, পানপাতা, মাছসহ স্থানীয় পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ আরও সহজ হবে। এতে আঞ্চলিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
একইসঙ্গে সিলেটকে একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাবে রুপান্তর করা গেলে ঢাকার উপর অতিরিক্ত চাপ কমবে এবং পর্যটন, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিকভাবে বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। “দু'টি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ” হিসেবে পরিচিত সিলেটের অপরিসীম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালীভাবে উপস্থাপিত হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠনগুলো সমাজের “সামাজিক পুঁজি” হিসেবে কাজ করে। এগুলো মানুষে মানুষে আস্থা তৈরি করে, তরুণ প্রজন্মকে নেতৃত্বের শিক্ষা দেয়, সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করে এবং সমাজকে একটি ইতিবাচক ও মানবিক ধারার দিকে এগিয়ে নেয়। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পাশাপাশি এ ধরনের সংগঠনগুলোও একটি সুস্থ, সচেতন ও দায়িত্বশীল সমাজ বিনির্মাণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
“সবার আগে দেশ” এই দর্শনই হবে মূল চালিকাশক্তি জানিয়ে উপস্থিত অতিথিদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রবাসী কমিউনিটি নেতা আব্দুল মালেক তারেক। অনুষ্ঠান শেষে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এক নৈশভোজের আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত করা হয়।
কাওছার আহমদ