নগরীর চৌখিদিখিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত...
মহানগরীর চৌখিদেখি পয়েন্ট এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত আরেকজন...
ছবি সংগৃহীত
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে শুধু পরিবেশ অধিদপ্তর বা পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; কৃষি, মৎস্য, অবকাঠামো, শিল্প, নগরায়ণ, পর্যটনসহ সংশ্লিষ্ট সব খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘আসুন সমন্বিত পরিকল্পনা করি। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের কাজ শুধু পরিবেশ বিভাগের একার নয়। সবাইকে সমন্বিতভাবে এটি বাস্তবায়ন করতে হবে।’
বুধবার (১৬ নভেম্বর) সিলেটে কুনমিং-মন্ট্রিয়ল গ্লোবাল বায়োডাইভার্সিটি ফ্রেমওয়ার্ক (KMGBF)-এর আলোকে হালনাগাদকৃত জাতীয় জীববৈচিত্র্য কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা (NBSAP) ২০২৬–২০৩০ বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অবহিতকরণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিবেশ অধিদপ্তর, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় কর্মশালাটির আয়োজন করে। KMGBF-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় জীববৈচিত্র্য কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা হালনাগাদের উদ্যোগের বিষয়টি সরকারি নথিতেও প্রতিফলিত হয়েছ।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সিলেট জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় একটি অঞ্চল। এখানে একই সঙ্গে হাওর, পাহাড়, টিলা, চা-বাগান, নদী ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যকে বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
তিনি বলেন, ‘আমরা ধরে নিই, পরিবেশের বিষয়টি শুধু পরিবেশ মন্ত্রণালয় বা পরিবেশ অধিদপ্তর দেখবে। আসলে বিষয়টি তা নয়। কৃষি, মৎস্য, সড়ক, অবকাঠামো, শিল্প, নগরায়ণ, পর্যটন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ সবকিছুর সঙ্গেই পরিবেশের সম্পর্ক রয়েছে।’
পর্যটন ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্যের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করেই পর্যটনকে এগিয়ে নিতে হবে। পর্যটন বন্ধ করা যাবে না, আবার পর্যটনের নামে প্রাকৃতিক পরিবেশেরও ক্ষতি করা যাবে না। টাঙ্গুয়ার হাওরের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একসময় যে প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটকদের আকৃষ্ট করত, অতিরিক্ত বাণিজ্যিক কার্যক্রমের কারণে সেখানে পরিবর্তন এসেছে।
বিভাগীয় কমিশনার বলেন, শুধু সভা-সেমিনার করে পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব নয়; ব্যক্তিগত আচরণেও পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি বলেন, ‘এই সেমিনার থেকে বের হয়ে আমি যদি নিজেকে পরিবর্তন না করি, তাহলে বড় বড় কথা বলে কোনো লাভ নেই।’
এ জন্য পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। কর্মশালায় উপস্থাপিত NBSAP-এর কাঠামো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ লুৎফর রহমান বলেন, স্থানীয় পর্যায়ের অংশীজনদের কাছ থেকে পাওয়া মতামত NBSAP প্রণয়নের পরবর্তী ধাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, ‘এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য হলো আপনাদের কাছ থেকে মতামত নেওয়া। পরে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজন মন্ত্রণালয়গুলো এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে। এরপর তা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উপস্থাপন করা হবে।’
তিনি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সংরক্ষিত এলাকা কার্যকর ব্যবস্থাপনা, প্রজাতি ও প্রতিবেশব্যবস্থার বেসলাইন অ্যাসেসমেন্ট, অঞ্চলভিত্তিক বৃক্ষরোপণ, দূষণ ও প্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণ, শিল্পবর্জ্য পরিশোধন, ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার কমানো এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পরিবেশের ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন ড. লুৎফর রহমান। তাঁর মতে, পরিবেশ রক্ষার বার্তা সমাজের একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে তরুণদের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কর্মশালায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার, সিলেটের বিভাগীয় পরিচালক মোঃ আবুল কালাম আজাদ, পরিচালক মোহাম্মদ হাসান হাছিবুর রহমান ও এ কে এম রফিকুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক পাপিয়া সুলতানা এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট আফতাব চৌধুরী বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। কর্মশালায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন বিম্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসএ/সিলেট