রাজনগরে নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে মরদেহ মাটিচাপা : ঘাতক স্বামী আটক

post-title

ছবি সংগৃহীত

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় স্ত্রীকে হত্যা করে মরদেহ বাড়ির পাশেই মাটিচাপা দিয়ে নিখোঁজের নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে স্বামী আলমগীরের বিরুদ্ধে।

ঘটনার পর নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে থানায় এসে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অসঙ্গতি ধরা পড়লে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন।

সোমবার (৬ জুলাই) সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আলমগীরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির পাশের মাটি খুঁড়ে গৃহবধ‚ জায়েদা আক্তারের (৩২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ। নিহত জায়েদা আক্তার রাজনগর উপজেলার সোনাটিকি গ্রামের হান্নান মিয়ার মেয়ে। তার স্বামী আলমগীর হোসেন (৩৫) একই উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় স‚ত্রে জানা যায়- পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় ২০ দিন আগে আলমগীর তার স্ত্রীকে হত্যা করে বাড়ির পাশেই মরদেহ গোপনে মাটিচাপা দেন । হত্যার পর মরদেহটি বালির বস্তা দিয়ে চাপা দিয়ে তার ওপর সিসি ঢালাই করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে বিষয়টি আড়াল করতে স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার প্রচার চালান।

তার দাবি তার স্ত্রী জায়েদা বেগম কাউকে কিছু না জানিয়ে সৌদি আরব চলে গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে জায়েদা আক্তারের কোনো খোঁজ না পেয়ে স্বজনরা আলমগীরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিভিন্নভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যান। একপর্যায়ে আলমগীর নিজেই রাজনগর থানায় স্ত্রী নিখোঁজের বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি ও আচরণে সন্দেহ হয় পুলিশের। পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে হত্যা করে মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানায়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অভিযান চালিয়ে মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এদিকে, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। জানা গেছে- গত ৩ জুলাই জায়েদা বেগমের বাবা আব্দুল হান্নান মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় রাজনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৪২, তারিখ: ০৩/০৭/২০২৬) করেন। তদন্তের অংশ হিসেবে রাজনগর থানার এসআই (নিঃ) অরূপ সরকার গত ৫ জুলাই বিকেলে আলমগীর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি দাবি করেন, তার স্ত্রী গত ১৯ জুন সৌদি আরবে চলে গেছেন। তবে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি ও সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া গেলে তাকে থানায় এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে ৫ জুলাই পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আটককৃত আলমগীর হোসেন জানান, গত ১৭ জুন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তিনি তার সহযোগীসহ জায়েদা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

একদিন পরে মরদেহ নিজ বসতবাড়ির উঠানে গর্ত করে মাটি চাপা দিয়ে রাখেন।

সোমবার (৬ জুলাই) সকালে ঘাতক স্বামীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) নোবেল চাকমা, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল খয়ের এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল শিকদারের উপস্থিতিতে রাজনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি খুঁড়ে জায়েদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই ঘটনায় ভিকটিমের স্বামীসহ ২ জন পুলিশ হেফাজতে আছে। লাশের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রাজনগর থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত আলমগীরকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি হত্যাকান্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিহতের পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

এসএ/সিলেট