ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত

post-title

ছবি সংগৃহীত

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনদের কাছে একে একে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এদিকে, দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ১৪ জন এখনও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-২৫৬৩) একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার (ঢাকা মেট্রো-ব ১২-৫৯৮৭) কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে ৭ জন মারা যান এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থান আরও ২জনসহ মোট ৯ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। নিহত সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনায় দুই বাসের অন্তত ২৪ জন যাত্রী আহত হন। তাদের মধ্যে ১৪ জন বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহতরা হলেন- কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত সাফিউদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (সোহরাব) (৫০),  সিলেটের দক্ষিণ সুরমার চণ্ডীপুল এলাকার জাহাঙ্গীরের তিন বছর বয়সী মেয়ে ফাইজা, সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২), কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার চণ্ডিবের গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে ও বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বগডহর গ্রামের মৃত বারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন (৪৪), সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার উমনপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে আরমান (১৯), কুমিল্লার বাঙ্গুরা বাজার থানার পীরকাশিমপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে সানিয়াদ জাহাঙ্গীর সৌরভ (৩৯), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার শেরপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম ইমন এবং কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ষাইধার (আটরামপুর) গ্রামের রঞ্জিত সূত্রধরের ছেলে রুবেল সূত্রধর (৩৭)।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী গণমাধ্যমকে জানান, সামনে থাকা একটি পিকআপ ভ্যানকে ওভারটেক করতে গিয়ে বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি বিপরীত লেনে উঠে পড়েছিল। এরপরই ইউনিক পরিবহনের বাসের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনায় আহত কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের বাসিন্দা ফারুক মিয়া (৫২) জানান, পাঁচ বন্ধু মিলে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে সিলেটে এসেছিলেন তারা। তাদের মধ্যে দুজন বিমানে ঢাকায় ফিরে গেলেও বাকি তিনজন ইউনিক পরিবহনের সকালের বাসে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ফারুক মিয়া বলেন, ‘দুর্ঘটনার সময় আমি কিছুটা ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। আমাদের বন্ধু সাইফুল ইসলাম এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।’

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রাশেদ মুনীর জানান, দুর্ঘটনার পরপরই ১৬ জন আহতকে হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরে কয়েকজনকে ইএনটি, চক্ষু ও নিউরোসার্জারি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়েছে। নিউরোসার্জারি বিভাগে ভর্তি তিনজনের মধ্যে একজনের সিটিস্ক্যান রিপোর্ট স্বাভাবিক এসেছে। আরেকজনের সিটিস্ক্যান সম্পন্ন হয়নি এবং অপর একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালে আনা ১৬ জনের মধ্যে একটি শিশুকে প্রথমেই মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১৪ জনের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও অন্যদের অবস্থা স্থিতিশীল এবং উদ্বেগের কারণ নেই।

শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, নিহত ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি বলে জানান তিনি।

এসএ/সিলেট