হকার্স মার্কেটে গোপনে ভেজাল পণ্য উৎপাদন, ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড, তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

post-title

ছবি সংগৃহীত

নগরীর ব্যস্ততম লালদিঘির পাড় হকার্স মার্কেটে গোপনে তৈরি হচ্ছিল নিষিদ্ধ উপাদান দিয়ে ভেজাল পণ্য। মঙ্গলবার সেখানে অভিযান চালিয়ে তিন প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই ঘটনায় জড়িত এক ব্যবসায়ীকে দেওয়া হয়েছে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মিশু এবং জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (এডি) জয়নাল আবেদীন, নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এবং সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি দল।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, হকার্স মার্কেটের একটি ভবনের চতুর্থ তলায় গোপনে বিভিন্ন নিষিদ্ধ ও ভেজাল পণ্য উৎপাদন করা হচ্ছিল। বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ‘গণচিনি’ নামক একটি উপাদান ব্যবহার করে এসব পণ্য তৈরি করা হতো। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এসব পণ্য মূলত প্রত্যন্ত অঞ্চলে যৌন উদ্দীপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মিশু জানান, এ ধরনের ক্ষতিকর পদার্থ মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এসব পদার্থ ব্যবহারের কারণে ইতোমধ্যে অনেকের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, পণ্যের প্যাকেজিংয়ে ‘পাবনা, বাংলাদেশ’ লেখা থাকলেও এর পেছনে জড়িত মূল চক্র কিংবা উৎপাদনের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে ব্যবসায়ীরা কোনো সঠিক তথ্য দিতে পারেননি।

অভিযানকালে অনিয়ম ও নকল পণ্য প্রস্তুতের দায়ে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এ ছাড়া অন্য দুটি প্রতিষ্ঠানে অনুমোদনহীন শিশুখাদ্য বিক্রি এবং বিভিন্ন কোম্পানির ট্রেডমার্ক ও প্যাকেজিং নকল করে মানহীন পণ্য বাজারজাত করার দায়ে মোট ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মিশু আরও জানান, বাজার মনিটরিংয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের নিয়ে নিয়মিত সভা-সেমিনার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এরপরও অতি মুনাফার লোভে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী জেনেশুনে ক্ষতিকর ও অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ভেজাল ও নকল পণ্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এসএ/সিলেট