কর্মচারী সংসদের সাধারণ সভায় সিসিক প্রশাসক

সবার সহযোগিতায় আদর্শ সিটি কর্পোরেশন গড়তে চাই

post-title

ছবি সংগৃহীত

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, খ্যাতি ও গুরুত্বের দিক থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পরই সিলেটের অবস্থান। কিন্তু সেই তুলনায় সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়নি।

এরপরও জনগণকে সেবা প্রদানে সিসিক পিছিয়ে নেই। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় নগরবাসীকে নিয়মিত সেবা দেওয়া হচ্ছে। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় ভবিষ্যতে একটি আদর্শ সিটি কর্পোরেশন গড়ে তুলতে চাই।

রোববার (১৭ মে) বেলা ২টায় নগরীর ঐতিহ্যবাহী সারদা স্মৃতি ভবনে আয়োজিত সিলেট সিটি কর্পোরেশন কর্মচারী সংসদের বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিসিক প্রশাসক বলেন, “২০০২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সিলেট পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ ২৪ বছরেও প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। নিয়োগ প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতার অভাব ছিল। আমি কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা নিতে আসিনি কিংবা কারও অন্যায় আবদার রক্ষা করতেও আসিনি। আমি সততা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নগরবাসীর সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের ন্যায্য দাবি ও কল্যাণের বিষয়গুলো আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। তবে একইসঙ্গে সবার দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতাও প্রয়োজন।”

কর্মচারী সংসদের সভাপতি আব্দুল বাছিতের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আখতার সিদ্দিকী বাবলুর পরিচালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মো. একলিম আবদীন, নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ উল্লাহ সজীব, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাস, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আ ন ম মনছুফ এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ।

সভায় আরও বক্তব্য দেন কর্মচারী সংসদের সহসভাপতি মুহিব উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাসুক মিয়া, ক্রীড়া সম্পাদক বিপ্লব কুমার দাশ, দপ্তর সম্পাদক গৌতম রায়, সাংস্কৃতিক সম্পাদক তাজুল ইসলাম এবং কার্যকরী সদস্য মোস্তাক আহমদসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সভায় কোষাধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কর্মচারী সংসদের আয়-ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপন করেন। এ সময় অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ীকরণ, কর্মচারী সংসদের স্থায়ী কার্যালয় নির্মাণ, সিসিকের সাংগঠনিক কাঠামো অনুমোদন, নারী কর্মীদের জন্য নামাজের স্থান নির্ধারণ, পদোন্নতি, ক্যান্টিন স্থাপন এবং চাকরিকালীন অবস্থায় কোনো কর্মচারীর মৃত্যু হলে আর্থিক অনুদান প্রদানের মতো বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়।

দাবিগুলোর বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করে প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “কর্মচারীদের দাবিগুলো যৌক্তিক। একটি আদর্শ ও জনবান্ধব সিটি কর্পোরেশন গড়ে তুলতে সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করলে পর্যায়ক্রমে এসব দাবি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।”

এসএ/সিলেট