থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে

কানাইঘাটে সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি এখনও শান্ত হয়নি

post-title

ছবি: সংগৃহীত

কানাইঘাটের বড়চতুল ইউনিয়নের কুড়ারপাড় গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি এখনও শান্ত হয়নি। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় উভয়পক্ষ ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়াতে পারে এমন আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গ্রামের এজমাল ফান্ড, হিসাব ও বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে কুড়ারপাড়ে দুটি পক্ষ তৈরী হয়েছে। এক পক্ষে রয়েছেন জবরুল ইসলাম, ফখরুল ইসলাম, ফয়েজ আহমদ ও হাসন আহমদ গংরা। অপর পক্ষে রয়েছেন মুজিবুর রহমান, আলী আহমদ ও মুহিবুর রহমান গংরা। তাদের এ বিরোধ দীর্ঘ দিনের। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মুরব্বরিা দফায় দফায় সালিশ বৈঠক করেও সমাধান করতে পারেননি।


এদিকে, মুজিবুর রহমান, আলী আহমদ ও মুহিবুর রহমান গংরা শক্তিশালী হওয়ায় ফখরুল ইসলাম গংদেরকে কোণঠাসা করে এলাকায় ‘একঘরে’ করার অভিযোগ ওঠেছে।

গর্বশেষ গত শুক্রবার জুমার নামায শেষে উভয় পক্ষ আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষে অন্তত অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন।

আহতরা হলেন- মৃত আব্দুর রহিমের পুত্র ফখরুল ইসলাম (৫১), মৃত হবিবুর রহমানের পুত্র ইউপি সদস্য আব্দুল মুতলিব (৫৪), কালা মিয়ার পুত্র মোহাম্মদ আলী (২৮), মৃত মদরিছ আলীর পুত্র জামাল আহমদ (৬০), মৃত আমির আলীর পুত্র হারিছ উদ্দিন (৫৮), হারুন রশিদের পুত্র ইমাম আহমদ (১৬), মৃত আব্দুল খালিকের পুত্র হেলাল আহমদ (৫৫), কালা মিয়ার পুত্র সাদিক (২০), মৃত কুতুব আলীর পুত্র ফয়েজ আহমদ (৪৫), সাইফুল আলমের পুত্র রায়হান (২০), মৃত মুজফর আলীর পুত্র সাইফুল আলম (৬০), মৃত আমির আলীর পুত্র আলমাছ (৪৭), কালা মিয়ার পুত্র হাসন আহমদ (৪২), মৃত গোলাম ওয়াজিদের পুত্র সেলিম আহমদ (৫০), নুরুল ইসলামের পুত্র রাসেল আহমদ (২৫), হাসন আহমদের পুত্র জাবেল আহমদ (২২), মৃত মুশাহিদ আলীর পুত্র আব্দুল লতিফ (৫০), মাহমুদ আলীর পুত্র আবুল কালাম (৩১), মৃত সফর আলীর পুত্র হারুন রশিদ (৫১), মৃত কাসিম আলীর পুত্র কালা মিয়া (৬০), আব্দুল লতিফের পুত্র কিবরিয়া (২০), জামাল উদ্দিনের পুত্র রহিম উদ্দিন (১০), মৃত আতাউর রহমানের পুত্র নুর ইসলাম (৬৪), শফিকুর রহমানের পুত্র আলিম উদ্দিন (৪৫), আব্রু মিয়ার পুত্র আব্দুল হাসিম (৬০), মৃত ইসমাইল আলীর পুত্র শাহাব উদ্দিন (৫০), মৃত তৈয়ব আলীর পুত্র আব্দুর রহমান কালাই (৪৫), মৃত হাবিবুর রহমানের পুত্র হেলালুর রহমান (৫৫) সহ উভয় পক্ষে অর্ধ শতাধিক লোক আহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় ফয়েজ আহমদ বাদী হয়ে ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২৫/৩০ জনকে আসামী করে কানাইঘাট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

আসামীরা হলেন- ১। সুহেব আহমদ (৩৮), পিতা- মুজিবুর রহমান, ২। আলিম উদ্দিন (৩৫), পিতা- এবাদুর রহমান, ৩। আজির উদ্দিন (৫০), পিতা- মৃত সামছুল হক, ৪। শাহনাজ (৩৫), পিতা- মুজিবুর রহমান, ৫। আমির উদ্দিন (২৬), পিতা- মৃত কটাই মিয়া, ৬। এরশাদ আহমদ (২৮), পিতা- আজির উদ্দিন, ৭। আব্দুস শুকুর (৩৫), পিতা- আব্দুন নুর, ৮। মুহিব (৪৮), পিতা- মৃত শামছুল হক, ৯। নোমান আহমদ @ মুন্না (৩০), পিতা- মুজিবুর রহমান, ১০। সালমান আহমদ (৩২), পিতা- আলী আহমদ, ১১। শাহ আলম (২৫), পিতা- মুহিবুর রহমান, ১২। মিজান (৩৩), ১৩। আবুল হাসান (২২), উভয় পিতা- শাহাব উদ্দিন, ১৪। তোফায়েল (২২), পিতা- নজরুল ইসলাম, ১৫। ইমরান আহমদ (২৮), পিতা- আব্দুন নুর, ১৬। ময়না মিয়া (৩২), পিতা- ফয়জুল হাসান, ১৭। আব্দুল কুদ্দুছ (২৬), পিতা- আব্দুন নুর, ১৮। জুবের আহমদ (২৮), পিতা- খলিল আহমদ, ১৯। রুবেল আহমদ (২৭), পিতা- অজ্ঞাত, ২০। শাহার (২৮), পিতা- মৃত ফয়জুল হক, ২১। আবুল খায়ের (২২), পিতা- মাহমুদ হোসেন, ২২। রুহুল (৩৫), ২৩। ছিফত (৩০), ২৪। মাছুম আহমদ (২৮), সর্ব পিতা- সিরাজ উদ্দিন, ২৫। রেজওয়ান (৩০), পিতা- মৃত আফতাব উদ্দিন, ২৬। হবিব উদ্দিন (২৮), ২৭। বিলাল উদ্দিন (২৫), উভয় পিতা- নুর উদ্দিন, ২৮। শাহাব উদ্দিন (৩৫), ২৯। আলা উদ্দিন (৩০), উভয় পিতা- মৃত আব্দুস সালাম, ৩০। নিজাম উদ্দিন (৩৫), পিতা- মৃত জমির উদ্দিন, ৩১। রোমান উদ্দিন (২৪), পিতা- মৃত ফয়জুল হক, ৩২। মিজান উদ্দিন (২৪), পিতা- আলকাছ উদ্দিন, ৩৩। বাবুল আহমদ (৪৫), পিতা- মৃত নুর উদ্দিন, ৩৪। এনাম উদ্দিন (৪০), ৩৫। এবাদুর রহমান (৪৫), উভয় পিতা- মৃত ফয়জুল হক @ কালা, ৩৬। মনির উদ্দিন (২৩), পিতা- এনাম উদ্দিন, ৩৭। আব্দুর রকিব @ বতাই (৪৫), পিতা- মৃত আব্দুর রব, ৩৮। তারেক আহমদ (২২), পিতা- আব্দুর রকিব @ বতাই, ৩৯। রোমান (৩৪), ৪০। আসাদ (২৭), উভয় পিতা- আব্দুল লতিফ, ৪১। হোসন আহমদ (৪০), ৪২। ফয়েজ আহমদ (৩৬), উভয় পিতা- গোলাল আহমদ, ৪৩। আব্দুল হাসিম (৫৫), পিতা- মৃত শফিকুল হক, ৪৪। ইয়াহিয়া (২২), ৪৫। জাকারিয়া (২৫), উভয় পিতা- আব্দুল হাসিম, ৪৬। শাহাব উদ্দিন (২৪), পিতা- আলী আহমদ, ৪৭। সুজন আহমদ মাহবুব (২২), পিতা- জাকারিয়া, ৪৮। ফরিদ উদ্দিন (৫৫), পিতা- মৃত রাশিদ আলী, ৪৯। তোফায়েল (২২), ৫০। সাহেল (২০), উভয় পিতা- বাবুল আহমদ, ৫১। আছেব বখতিয়া (২২), পিতা- ফখর উদ্দিন, ৫২। জয়নাল (৪৫), ৫৩। মুহিবুর রহমান আউয়া (৪০), উভয় পিতা- মৃত আব্দুর রহমান, ৫৪। আম্বিয়া (২৩) পিতা- মৃত আফতাব উদ্দিন, ৫৫। আব্দুল কাদির (২২), পিতা- আব্দুন নুর, ৫৬। মুসা মিয়া (৩৭), পিতা- আব্দুল হামিদ, ৫৭। নাহিদ (২০), পিতা- কটাই মিয়া, ৫৮। তুহিন আহমদ (২২), পিতা- মুহিব, সর্ব সাং- কুড়ারপার, ৫নং বড়চতুল ইউপি, থানা- কানাইঘাট, জেলা- সিলেট সহ অজ্ঞাতনামা আরো ২৫/৩০ জন। 

এর আগে ৫ মে রাত অনুমান সাড়ে ১০টার দিকে ফখরুল ইমলাম, জবরুল ইসলাম ও হাসন আহমদসহ কয়েকজনের বাড়িতে হামলা করে মুজিবুর রহমান, আলী আহমদ ও মুহিবুর রহমান গংরা। এঘটনায় ফখরুল ইসলাম বাদী হয়ে ৪১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত নামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামী করে একটি মামলাও করেছিলেন।

 

শুক্রবারের সংঘর্ষের ঘটনায় ফয়েজ আহমদ বাদি হয়ে থানায় যে অভিযোগ দায়ের করেছেন তা এখানে উল্লেখ করা হলো-

অভিযোগে বর্ণিত বিবাদীরা আমার একই গ্রামের বাসিন্দা এবং বিবাদীরা একদলভুক্ত উশৃঙ্খল, দাঁঙ্গাবাজ, লাঠিয়াল ও পরধনলোভী প্রকৃতির।

আমাদের গ্রামের এজমাল সম্পত্তি হিসেবে সিঙ্গাইরকুড়ি নামক একটি বিল রহিয়াছে এবং উক্ত বিলে বিবাদী পক্ষ ও আমরা সকলে সমান হিস্যাদার। বিগত বছর উক্ত সিঙ্গাইরকুড়ি বিলটি আমাদের মৌজা হইতে ৪,০০,০০০/- টাকার বিনিময়ে লীজ প্রদান করা হয় এবং লীজের ৪,০০,০০০/- টাকা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল মালিক চৌধুরীর হস্তক্ষেপে সিঙ্গাইরকুড়ি বিলের একটি কমিটি গঠন করে ক্যাশিয়ার ১নং বিবাদী সুহেব আহমদের নিকট আমানত হিসেবে রাখা হয়, পরবর্তী ৩ মাসের মধ্যে উক্ত লীজের টাকা কমিটির মাধ্যমে আমরা গ্রামবাসী হিস্যাদারগণ সমানভাগে বণ্টন করিয়া দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উল্লেখিত ১নং বিবাদী সুহেব আহমদ ও ২নং বিবাদী আলিম উদ্দিন সহ সমূহ বিবাদীরা পরস্পর যোগসাজশে একজোট হইয়া অন্যায় লাভের আশায় আমি সহ বর্ণিত সাক্ষীগণের হিস্যার টাকা বুঝাইয়া না দিয়া আত্মসাত করার পায়তারায় লিপ্ত হয়। ৩ মাস অতিবাহিত হইলে আমি ও ১-৫নং সাক্ষীগণ ১নং বিবাদী গংদের নিকট আমাদের বিলের হিস্যার টাকা বুঝাইয়া দেওয়ার কথা বলিলে ১নং বিবাদী আমাদের অংশের টাকা বুঝাইয়া না দিয়া মাসের পর মাস আমাদেরকে ঘোরাইতে থাকে। একপর্যায়ে আমরা আমাদের বিলের হিস্যার টাকা ১নং বিবাদী গংদের নিকট হইতে বুঝিয়া পাওয়ার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল মালিক চৌধুরীর নিকট বিচারপ্রার্থী হইলে ইহাতে ১নং বিবাদী সুহেব আহমদ সহ সকল বিবাদীগণ আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হইয়া উঠে এবং বিবাদীরা একজোট হইয়া আমাদেরকে বিলের লীজের টাকার হিস্যা হইতে বঞ্চিত করার জন্য তাহারা আমি সহ বর্ণিত সাক্ষীগণদের গ্রামের ৩টি মসজিদে নামাজ পড়তে বাঁধা প্রদান করে এবং আমাদের ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের গ্রামের মসজিদের মক্তবে না যাওয়ার জন্য বাঁধা প্রদান করিয়া বিভিন্ন ধরনের হুমকি ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। বিবাদীরা একদলভুক্ত দাঁঙ্গাবাজ ও উশৃঙ্খল প্রকৃতির বেশি সংখ্যক লোক হওয়ায় তাহাদের হুমকি ভয়ভীতির কারনে আমি সহ বর্ণিত সাক্ষীগণ নিরীহ হওয়ায় গ্রামে একপ্রকার একঘরে হয়ে পড়ি এবং আমরা গ্রামের মসজিদে নামাজ পড়তে ও আমাদের ছেলে-মেয়েরা মক্তবে যেতে পারছি না। উক্ত ঘটনার ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার সহ গণ্যমান্য মুরব্বীয়ান অবহিত করে বিচারপ্রার্থী হইলে বিবাদীরা স্থানীয় বিচার-সালিশ কোন কিছুর তোয়াক্কা করে না। উপরে উল্লেখিত ঘটনার দিন গত ৩০/১০/২০২৬ইং তারিখ জুমআর নামাজ আদায় করার জন্য আমি সহ বর্ণিত ১-২১নং সাক্ষীগণ গংরা কুড়ারপার ছোট জামে মসজিদে নামাজ পড়তে যাই। আমরা কুড়ারপার ছোট জামে মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার খবর পেয়ে ১নং বিবাদী সুহেব আহমদের হুকুম ও নেতৃত্বে সকল বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে নামাজ শেষে বিকাল অনুমান ০২.০০ ঘটিকার সময় পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে বেআইনী জনতায় দলবদ্ধ হইয়া ধারালো রাম দা, সেল, সুলফি, লোহার রড, লোহার পাইপ, রুইল, লাঠি-সোটা, ইট-পাটকেল ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়া আমাদেরকে প্রাণে মারার জন্য কুড়ারপার ছোট জামে মসজিদের সামনের রাস্তায় আমি সহ বর্ণিত সাক্ষীগণ নামাজ পড়ে মসজিদ হইতে বাহির হওয়ার সাথে সাথে আমাদের উপর অতর্কিত ভাবে হামলা করে। তখন ১নং বিবাদী সুহেব আহমদ বিবাদীদের হুকুম দিয়া বলে, শালার বেটাদের জানে শেষ করিয়া দে। হুকুম পাওয়ার সাথে সাথে সকল বিবাদীরা তাহাদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে খুন জখমের হুমকি দিয়া আমাদেরকে এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে। ৪নং বিবাদী শাহনাজ তাহার হাতে থাকা ধারালো সুলফি দিয়া প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে ১নং সাক্ষী ফখরুল ইসলামের বুকে ঘাই মারিয়া গুরুতর কাঁটা রক্তাক্ত জখম করে। সাথে সাথে ৩ ও ৬নং বিবাদীদ্বয় তাহাদের হাতে থাকা রুইল ও রড দ্বারা ১নং সাক্ষী ফখরুল ইসলামকে এলোপাতাড়ি পিঠাইয়া তাহার পিঠে, গর্দানে, কোমরে, হাত-পা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁছা ফুলা জখম করে। ২নং বিবাদী আলিম উদ্দিনের হাতে থাকা ধারালো রাম দা দিয়ে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে ২নং সাক্ষী ইউপি সদস্য আব্দুল মুতলিবের মাথায় স্বজোরে কোপ মেরে মাথা কাঁটা গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। সাথে সাথে ৭, ৮ ও ১০নং বিবাদীদের হাতে থাকা রুইল, লাঠি-সোটা দ্বারা ইউপি সদস্য আব্দুল মুতলিবকে এলোপাতাড়ি পিঠাইয়া তাহার মাথায়, বুকে, পিঠে, হাত-পা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁছা ফুলা জখম করে। ১নং বিবাদী সুহেব আহমদের হাতে থাকা লোহার রড দ্বারা প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে ৩নং সাক্ষী মোহাম্মদ আলীর নাকের উপর স্বজোরে আঘাত করিয়া নাক ফাঁটা গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। সাথে সাথে ১১-১৫নং বিবাদীদের হাতে থাকা লাঠি-সোটা দ্বারা ৩নং সাক্ষী মোহাম্মদ আলীকে এলোপাতাড়ি পিঠাইয়া তাহার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁছা ফুলা জখম করে। ৫নং বিবাদী আমির উদ্দিনের হাতে থাকা লোহার রড দ্বারা প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে ৪নং সাক্ষী জামাল আহমদের মাথায় স্বজোরে আঘাত করে মাথা ফাঁটা গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। সাথে সাথে ৩৪নং বিবাদী এনাম উদ্দিনের হাতে থাকা সুলফি দ্বারা ৪নং সাক্ষী জামাল আহমদের বাম পায়ের হাটুর নিচে ঘাই মারিয়া কাঁটা রক্তাক্ত জখম করে। ৩৫নং বিবাদী এবাদুর রহমানের হাতে থাকা রুইল দ্বারা ৫নং সাক্ষী হারিছ উদ্দিনের ডান চোখের নিচে আঘাত করিয়া কাঁটা রক্তাক্ত জখম করে। ২২নং বিবাদী রুহুল এর হাতে থাকা কাঠের রুইল দ্বারা ৬নং সাক্ষী ইমাম আহমদের ডান হাতের কনুইর নিচে আঘাত করিয়া হাঁড় ভাঙ্গা গুরুতর জখম করে। ৯নং বিবাদী নোমান আহমদ @ মুন্নার হাতে থাকা লোহার এঙ্গেল দ্বারা আমাকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথার বাম পার্শ্বে আঘাত করিয়া মাথা কাঁটা গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। ১৬-২০নং বিবাদীরা রুইল, লাঠি-সোটা দ্বারা আমাকে এলোপাতাড়ি পিঠাইয়া আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁছা ফুলা জখম করে। অন্যান্য সকল বিবাদীরা সহ অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা তাহাদের হাতে থাকা সেল, সুলফি, রড, রুইল, লাঠি-সোটা দ্বারা ৭-২১নং সাক্ষীগণদের এলোপাতাড়ি পিঠাইয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করিয়া তাহাদের বুকে, পিঠে, মাথায়, গর্দানে, কোমরে, হাত-পা সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁছা ফুলা ও রক্তাক্ত জখম করে। ঘটনার সময় আমাদের শোর চিৎকারে অন্যান্য সাক্ষীগণ সহ আশপাশ হইতে লোকজন আগাইয়া আসিলে বিবাদীরা তাহাদেরকেও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। সমূহ বিবাদীরা আমাদেরকে বেদড়ক মারপিট করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আমাদেরকে প্রকাশ্যে খুন জখমের হুমকি দিয়া চলিয়া যায় এবং যাওয়ার সময় বিবাদীরা হুমকি দেয় পুণরায় আমরা যেন গ্রামের মসজিদে নামাজ পড়তে না যাই, নতুবা তাহারা পুণরায় হামলা করে আমাদের প্রাণে শেষ করিয়া ফেলিবে। উক্ত ঘটনার পর এলাকার লোকজন ও আত্মীয়-স্বজনদের সহযোগিতায় আমি সহ জখমী ১-২১নং সাক্ষীগণ কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেøক্স ও জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেøক্সে চিকিৎসার জন্য গেলে ১-৩নং সাক্ষীগণের জখম গুরুতর হওয়াতে তাহাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন এবং আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেøক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করি। ১-৩নং সাক্ষীগণ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। বর্তমানেও বিবাদীরা আমাদের বাড়ি-ঘরে আক্রমন করার জন্য ঘোরাফেরা করিতেছে, যাহার কারনে বিবাদীগণ কর্তৃক আমাদের বাড়ির মহিলা ও শিশুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগিতেছে। উক্ত ঘটনার পর আমি জখমী অন্যান্য সাক্ষীগণের সহিত যোগাযোগ করে ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সহ এলাকার গণ্যমান্য মুরব্বীয়ান অবহিত করে থানায় আসিয়া অভিযোগ দায়ের করিতে বিলম্ব হইল। আমি সহ ৪-২১নং সাক্ষীগণের চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপত্রের ফটোকপি অত্র সাথে সংযুক্ত করে দিলাম এবং ১-৩নং সাক্ষীগণের ছাড়পত্র পরবর্তীতে দাখিল করিব।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। আইন শৃঙ্খলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। 









কাওছার আহমদ